সম্পাদকীয়

তামাকপণ্যের কর আহরণে শৈথিল্য কাম্য নয়

যেকোনো ধরনের তামাকপণ্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তা সে ধোঁয়াযুক্ত তামাকপণ্যই হোক আর ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যই হোক। দেশে ধোঁয়া সৃষ্টিকারী তামাকপণ্য বা বিড়ি সিগারেটের কোম্পানিগুলোকে মোটামুটি চিহ্নিত করা গেছে। বিশেষ করে সিগারেট কোম্পানিগুলো থেকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পায়। কিন্তু বিড়ি উৎপাদন থেকে রাজস্ব আহরণ খুবই কম। এর চেয়ে কম রাজস্ব আসে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য থেকে। জর্দা, গুল ও সাদাপাতা প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করাই দুরূহ ব্যাপার বলে নানা সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, গুল-জর্দা উৎপাদনকারী অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান সরকারকে কোনো রাজস্বই দেয় না। বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘গবেষণা ফল প্রকাশ: ৪৮৩টি জর্দা-গুল কারখানার মধ্যে কর দেয় ২১৮টি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) সহায়তায় পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ৪৩৫টি জর্দা কারখানা এবং ৪৮টি গুল কারখানার মধ্যে মাত্র ২১৮টি কর দেয়। আটটি বিভাগের ২৯টি জেলায় করজালের বাইরে থাকা ৮৮ জন ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য উৎপাদনকারীর (৮১ জর্দা ও ৭ গুল) মধ্যে ৩৩ শতাংশের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নেই।

এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। দেশে তামাকসেবীদের মধ্যে একটি বড় অংশই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। গবেষণার তথ্যই বলছে, দেশে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি। এ তামাক ব্যবহারের কারণে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির শিকার হচ্ছেন। তামাক ব্যবহারজনিত কারণে সৃষ্ট নানা রোগে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটছে। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ তামাক সেবন। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যতটা সম্ভব তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অঙ্গীকারও করেছে। বাংলাদেশের উচিত, সেই অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তা পরিপালনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া।

২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তামাকের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবছরই তামাকপণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়েই চলেছে। এমনটি চলতে থাকলে তামাকপণ্যের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভবপর হবে না। প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ২০০৫ সালেই আইন প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু সে আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তাছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক তামাক কোম্পানি তামাপপণ্যের কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে বলেও শোনা যায়। এমন পরিস্থিতিতে তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উচিত স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করা। তামাকপণ্যের কর এমনভাবে নির্ধাতির হওয়া উচিত যাতে এসব পণ্যের উদ্যোক্তারা পণ্যটির ব্যবসা করতে নিরুৎসাহিত হন। একটি শক্তিশালী কর ব্যবস্থার মাধ্যমে তামাক পণ্যের ব্যবহার বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ নেয়া সম্ভব বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..