তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হোক

ধূমপান সব বিবেচনায়ই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটির মূল কাঁচামাল তামাক। তামাক নিয়ন্ত্রণে ২০০৩ সালে প্রণীত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলে (এফসিটিসি)। এতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশ। ২০০৪ সালে অনুস্বাক্ষরের পর বাংলাদেশ ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এ আইনে ধোঁয়াবিহীন তামাকদ্রব্য গ্রহণ নিরুৎসাহিতকরণে কোনো ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি। ফলে ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য যেমনÑগুল, জর্দা ও খইনি প্রভৃতি গ্রহণের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ ছিল না। তাই ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইনে সব রকম ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জনসমাগমে, গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়। তামাকপণ্য ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

প্রকাশ্যে ধূমপান কমলেও সার্বিকভাবে দেশে ধূমপান বেড়েছে বলেই সাধারণ মানুষের ধারণা। ধূমপানজনিত রোগে আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও রাজস্ব আসে মাত্র ২০ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বড় বাধা বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন।

রোববার ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০২১’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে একজন সংসদ সদস্যও ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তামাকমুক্ত দেশ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এক বছরে তামাকজনিত কারণে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত ২০ মাসে কভিডে মৃত্যুর চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে যত তৎপরতা, তামাক নিয়ন্ত্রণে তত তৎপরতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কভিডকালে তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী কার্যক্রমে এফসিটিসি’র কার্যকর বাস্তবায়ন ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রাও এখন হুমকিতে। কভিডকালে তামাক কোম্পানির আয় বেড়েছে। সিএসআরের নামে তারা প্রচারণা চালিয়েছে।

অনুষ্ঠান সরকারের কাছে সাত দাবি তুলে ধরা হয়। এর উল্লেখযোগ্য হলো তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের অংশীদারিত্ব ছেড়ে দিতে হবে, তামাক রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ কর পুনর্বহাল করতে হবে; তামাক কোম্পানিকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারসহ অন্যান্য স্বীকৃতি দেয়া বন্ধ করতে হবে প্রভৃতি।

আমরা মনে করি, অর্থনীতি এগিয়ে নিতে ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। কঠোর আইন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার সত্ত্বেও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া বিশ্বের কাছে আমাদের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল হবে। তাই প্রশাসনের নির্লিপ্ত থাকার সুযোগ নেই।

এফসিটিসিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে আমাদের আলাদা পরিচয় রয়েছে। তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। যেসব অঞ্চলে তামাক চাষ হচ্ছে, সেসব প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। তামাক ও ধূমপানবিরোধী সংগঠনগুলোর পরামর্শ ও যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিতে হবে। যারা কৃষকদের নানা প্রলোভনে তামাক চাষে প্ররোচিত করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৬৭  জন  

সর্বশেষ..