প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তামাকমুক্ত দেশ গড়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের উদ্দেশ্য জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাকের ব্যবহার কমানো, অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন ও ব্যবসা প্রসার। এক্ষেত্রে সরকার ও তামাক কোম্পানিগুলোর নীতি সম্পূর্ণ বিপরীত। সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং সেই লক্ষ্যে গ্রহণ করছে নানা পদক্ষেপ। কিন্তু যেসব কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অভিযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম তামাক কোম্পানিগুলোর প্রভাব। কোম্পানিগুলো সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা কৌশলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

উক্ত বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে গতকাল বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের আয়োজনে ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি জুম ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়। ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন মানবকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক দীপংকর গৌতম, ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার সেবিকা দেবনাথ, দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার নিখিল ভদ্র এবং শেয়ার বিজের সিনিয়র রিপোর্টার মাসুম বিল্লাহ।

দীপংকর গৌতম বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবে অসুস্থ হওয়ার পর মানুষের শরীরে জীবন রক্ষাকারী ওষুধগুলো ঠিকভাবে কাজ করে না। সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, তামাক ক্ষতিকর পণ্য হলেও এর ভয়াবহ দিক গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হয় না বিধায় তামাক কোম্পানিগুলো সুবিধা ভোগ করেছে। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করলে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি ত্বরান্বিত হবে।

নিখিল ভদ্র বলেন, তামাকের কারণে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় গণমাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত রিপোর্ট ছাপানো কষ্টকর ছিল। বর্তমানে সময়ের পরিবর্তনে সচেতনতা বেড়েছে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমগুলোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাকের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।

সেবিকা দেবনাথ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের ধীরগতি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এবং আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তামাক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় মালিকপক্ষের সঙ্গে তামাক কোম্পানিগুলো সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

মাসুম বিল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ অনুযায়ী তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। সে অনুযায়ী আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু বাজেটের আগে তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রেরণ করে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। তিনি সুপারিশ করেন, তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার এবং তামাকের জটিল কর ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সহজ করা প্রয়োজন। সার্বিক আলোচনায় স্বাস্থ্যহানিকর পণ্য উৎপাদনকারী তামাক কোম্পানিগুলোকে পুরস্কার প্রদান থেকে বিরত থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।