সম্পাদকীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণে যৌক্তিকভাবে করারোপ করুন

কয়েক বছর ধরেই তামাকপণ্যের করকাঠামো পরিবর্তনের দাবি জোরদার হচ্ছে। সিগারেটের ওপর অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করারোপ করা হয় বেশি। তারপরও উন্নত দেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশে সিগারেটের দাম কম। তামাকপণ্যের  দাম বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বাস্তবানুগ উদ্যোগ নেয়নি। এটি হতাশাজনক। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এবার তামাকে বিশেষ করে সিগারেটের রাজস্ব বাড়বে। এ লক্ষ্যে মূল্য ধাপ কমিয়ে হবে। এছাড়া ধূমপায়ীদের করোনা ঝুঁকি বেশি। ফলে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে বিদ্যমান করের পাশাপাশি কভিড-১৯ ট্যাক্স আরোপ করার কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়। স্তর রাজস্ব বাড়ানো ও নতুন কভিড-১৯ কর আরোপ করা হলে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি রাজস্ব বাড়বে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের প্রশংসা পাবে বলেই ধারণা। 

তামাক চাষ পরিবেশ দূষণ, মাটির উর্বরতা নষ্ট ও খাদ্যনিরাপত্তায় ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়াসহ চাষিদেরও স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। ধূমপান হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুসের ক্যানসারসহ অনেক রোগের কারণ। তামাকের অন্যবিদ ব্যবহারে প্রতি বছর অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটাচ্ছে। নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে বিড়ি-সিগারেটই একমাত্র পণ্য, যা গ্রহণ না করেও ধূমপানকারীর আশপাশে থাকা মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই তামাকপণ্যে জনবান্ধব করকাঠামো চালুর দাবি চিকিৎসকসহ বিষেশজ্ঞদের।

অর্থনীতি এগিয়ে নিতে ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।  দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এনবিআর ও নীতিনির্ধারকদের কোনো কারণে তামাকপণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী কোম্পানির স্বার্থই রক্ষা করছেন। অথচ তামাকপণ্যে যুগোপযোগী ও কার্যকর করারোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়ত। বর্তমান সময়ে করোনা সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। ফলে এমন কোনো কর আরোপ করা উচিত হবে না, যাতে দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ ফেলে। সীমিত আয়ের মানুষের ওপর অল্প ব্যয় বৃদ্ধিও বড় চাপ ফেলে। তামাকপণ্যের ব্যবহার কমাতে সব তামাকপণ্যে কর বাড়ালে সাধারণ মানুষই উপকৃত হবে। যে প্রস্তাব বিশেষজ্ঞ মহল দিয়েছে, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

তামাক কোম্পানিগুলো উচ্চস্তরের সিগারেট নিন্মস্তরের ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এর প্রতিকারে কেবল কর নয়, দামও বাড়াতে হবে। শ্রমজীবীদের বড় অংশ ধূমপানজনিত রোধে কর্মক্ষমতা ও প্রাণ হারাচ্ছে। করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কভিড) সংক্রমণেও তামাকের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বড় বাধা। তাই তামাকপণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে জন-আকাক্সক্ষা প্রাধান্য পাবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..