দিনের খবর শেষ পাতা

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানিগুলো যুবকদের তামাক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সস্তা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে, যা সরকারের ২০৪০ সালে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া ব্যাহত করবে। কিশোর যুবকদের মাদকের প্রবেশদ্বার তামাক থেকে বিরত রাখতে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়াতে সুনির্দিষ্ট করারোপ জরুরি।

গতকাল রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ঢাকা কনফারেন্স অন টোব্যাকো অর হেলথ ২০২০ সম্মেলনে আগত প্রতিনিধিরা নানা গবেষণার আলোকে ঢাকা তামাক নিয়ন্ত্রণ ঘোষণার মাধ্যমে সরকারের কাছে এ দাবি জানায়। সম্মেলনে দেশের ১২০টির বেশি সংগঠনের ২৫০ প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। এতে ২০ মৌখিক ও পোস্টারে ২৮ গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে।

সম্মেলনে প্লানারি সেশনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মো. রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও স্পেশাল এনভয় অব ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম আবুল কালাম আজাদ। আলোচক ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সম্মেলনের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি ও ভার্চুয়াল অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্লুমবার্গ ফিলোনথপিকসের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক কেলি হেনিং, দি ইউনিয়নের তামাক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক গেন কোয়ান, ভাইটাল স্ট্যাটেজিসের রেবেকা পল, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের পরিচালক জোয়ানা কোহেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী, এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাত, এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার ও এমপি অ্যারোমা দত্ত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডাসের উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম বকুল। সমাপনী অনুষ্ঠানে নাটাবের প্রেসিডেন্ট মোজাফফর আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম। অতিথি ছিলেন দ্য ইউনিয়নের ডেপুটি পরিচালক আশিষ পান্ডে ও কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

সম্মেলনে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনতে ঢাকা তামাক নিয়ন্ত্রণ ঘোষণায় সরকারের কাছে ১৬ দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে তামাক কোম্পানির দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত নীতি প্রণয়ন বা বিদ্যমান নীতিতে যুক্ত করা ও খসড়া জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চূড়ান্তকরণ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া খসড়া জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ, খসড়া জাতীয় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুমোদন, কর বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনতে দেশে একটি জাতীয় কর নীতি প্রণয়ন করার দাবি জানান তারা। টেকসই বা অব্যাহত অর্থায়ন করে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে ‘হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন’ গঠন করা ও তামাক কোম্পানির বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে বিদ্যমান আইন অনুসারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়াসহ তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের সুপারিশ করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..