করপোরেট কর্নার

তামাক নিয়ন্ত্রণ করোনা রোধে ভূমিকা রাখবে

লাইভ টক শোতে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হলে তা চলমান করোনা মহামারি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনগণকে তামাকজাত পণ্য সেবনে উদ্বুদ্ধকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটি সক্রিয়করণ, কমিউনিটি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করে উদ্যোগ গ্রহণও জরুরি। এ ক্ষেত্রে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের আয়োজনে গতকাল ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের বর্তমান অবস্থা: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক লাইভ টক শোতে বক্তারা ওই মন্তব্য করেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘প্রত্যাশা’ মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার সাদিয়া মনোয়ারা উষা, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) উপ-পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ) নাসিম বানু এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

হেলাল আহমেদ বলেন, তামাক কোম্পানির আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এবং এর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এলাকাগুলোতে তরুণদের সংঘটিত করে এন্টি স্মোকিং ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় কমিউনিটি, থানা, সংসদ সদস্য সবাইকে এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এনটিসিসির কাজগুলোকে সমন্বয় এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য লোকবল বৃদ্ধি এবং অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে হলেও একটি করে কার্যালয় গড়ে তোলা জরুরি।

সাদিয়া মনোয়ারা উষা বলেন, তরুণরা নতুন জিনিস অনুকরণ করতে চায়। তামাক কোম্পানিগুলো নতুন নতুন কৌশলে এগুলো তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব থেকে নিজেকে এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে তামাক নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিটি নাগরিকের এখানে এগিয়ে আসা জরুরি।

নাসিম বানু বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো দেশে আইন প্রণয়ের বহু আগে থেকেই তামাক নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গবেষণা, টাস্কফোর্স কমিটি সক্রিয়করণ, আইন বাস্তবায়ন,  মনিটরিংয়ে সব কার্যক্রমের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যুক্ত করতে হবে।

মো. আবু রায়হান বলেন, তামাক সেবনকারীদের করোনা আক্রান্তের হার ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি। তা সত্ত্বেও তামাক কোম্পানিগুলো আইন লঙ্ঘন করে বিক্রয় কেন্দ্রে স্টিকার, ডামি প্যাকেট, ফ্লাইয়ার, ব্র্যান্ডের রং-লোগো সংবলিত শোকেস/ক্যাশ বক্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্রেতা ও ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে ফ্রি উপহার সামগ্রীও প্রদান করছে। আইন ও নীতিতে দুর্বলতা ও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো এসব অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে এফসিসিটিসি অনুসারে গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..