দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

তারল্য সংকট কাটাতে পারে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান এই সংকটের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তারল্য সংকট সংস্থান, অভ্যন্তরীণ সামর্থ্য এবং দেশের বন্ড মার্কেট বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) আরও এগিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতারা। আগামী দুই বছরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গতকাল বিএলএফসিএ’র নবনিযুক্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য, অর্থনীতিতে অবদান এবং চ্যালেঞ্জ গুলো  তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএ-র চেয়ারম্যান ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিগত কয়েক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ  অবদান রেখে চলেছে  আর্থিক  প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে দেশে  ৩৩ টি  আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা  সারাদেশে ২৭৬ শাখার ও  ৮ হাজার ৩৫৮ জন কর্মকর্তার মাধ্যমে  ২ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহককে আর্থিক সেবা দিচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিসেম্বর ২০১৯ ভিত্তিক ঋণের স্থিতি ৬৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে যার বেশিরভাগ মেয়াদি শিল্প ঋণ, এসএমই ঋণ এবং হাউসিং সেক্টরে বিতরণের মাধ্যমে বছরে এক লাখেরও বেশি নতুন কর্ম সংস্থান তৈরি হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর ২০১৯ ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর  মূলধন পর্যাপ্ততার হার  ১৬.৯% সেখানে ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১১.৬%, সম্পদের বিপরীতে উপার্জনের হার ব্যাংকিং খাতের দ্বিগুণেরও বেশি (১.০% এর বিপরীতে ০.৪%)। এছাড়া বিনিয়োগের উপর আয়ের হারের দিকেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিংখাতের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকিংখাতের কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু দুই তিনটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরটির সুনাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ক্ষুন্ন হয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সহায়তায় বিদ্যমান তারল্য সংকটের দ্রুত সমাধান করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ব্যবসার পুনর্গঠনে কাজ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।    

সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএ’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আরিফ খান বলেন, সরকারি ট্রেজারি বিলের হার বেশি থাকায় বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় কেউ ইনভেস্ট করতে চায় না। এজন্য বন্ড মার্কেট বৃদ্ধি করার জন্য সরকারকে মিউচুয়াল ফান্ডের দিকেও বেশি নজর দিতে হবে। দেশে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন হলে দেশের ব্যাংক খাতেও উন্নয়ন হবে। ফিক্সড ইনকাম বন্ডের ভালো একটি বাজার রয়েছে। সবাই চাচ্ছে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন। তারল্য সংকট মোকাবিলায় এ মার্কেট উন্নয়নের এখনই সঠিক সময়।

আগামী দুই বছরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিএলএফসিএ’র ভাইস চেয়ারম্যান ও আইআইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া বলেন, দেশের মধ্যে নন-ব্যাংক বা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা এই সেক্টরে থাকা সব কর্মীর দক্ষতার জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সরকারের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দূরত্ব কমানো, আইসিটি-ভিত্তিক উন্নয়ন এবং বন্ড মার্কেট বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চলছি।

বিএলএফসিএ’র ভাইস চেয়ারম্যান ও ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি সেক্টরের কাজ ও নিয়মনীতি ভাগ করে দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি সেক্টর যদি একই কাজ করে তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের বাধা আসবে। এছাড়া দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএ’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এসএম শামসুল আরেফিন বলেন, দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের প্রতিযোগী হতে চায় না, তাদের সহযোগী হয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। ব্যাংক খাতগুলোর চেয়ে আমাদের সাভির্সগুলো অনেকটাই সহজ। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিড়ম্বনায় না পড়ে সহজেই লোন সুবিধা পেয়ে থাকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..