প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তারেক-মিশুক নিহতের মামলায় বাসচালকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সড়ক দুর্ঘটনার ছয় বছর পর মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর গতকাল বুধবার এ রায় দেন।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আফছারুল ইসলাম মনি জানান, বাসচালক জামিরকে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় বেপরোয়া চালনার কারণে অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য (পরিকল্পিত নরহত্যা নয়) দোষী সাব্যস্ত করে আদালত তাকে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া দণ্ডবধির ৪২৭ ধারায় জামিরকে তার ‘দুষ্কর্মের’ জন্য ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাধব সাহা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

২০১১ সালের ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাস আরোহী তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি। ‘মুক্তির গান’ ও ‘মাটির ময়না চলচ্চিত্রে’র জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ তখন তার নতুন ছবি ‘কাগজের ফুল’-এর শুটিং শুরুর কাজ করছিলেন। অপরদিকে সাংবাদিকতার সাবেক শিক্ষক মিশুক মুনীর তখন টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কাগজের ফুলের লোকেশন দেখতেই তারা মানিকগঞ্জে গিয়েছিলেন।

ওই দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের প্রডাকশন ম্যানেজার ওয়াসিম ও কর্মী জামাল এবং মাইক্রোবাসচালক মুস্তাফিজও নিহত হন। আহত হন ওই মাইক্রোবাসে থাকা তারেকের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চিত্রশিল্পী ঢালী আল-মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলি এবং তারেকের প্রডাকশন ইউনিটের সহকারী সাইদুল ইসলামও। সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ওই ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দিয়ে যায়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।