প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অন্য দুজন হলেন একুশে টিভির তৎকালীন (২০১৫) সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও মাহাথীর ফারুকী। এদিকে জামিনে আছেন ইটিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম।

গতকাল সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। বিএনপির উদ্যোগে আগামী বুধবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত; যা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানিমূলক।

যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে সরকারি আক্রমণের শিকার হয়ে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়, সেখানে বিরোধী দলের নেতারা সরকারের কী ধরনের নিষ্ঠুর আক্রোশের শিকার হবেন, তা সহজেই অনুমেয়।

রিজভী বলেন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর দেশটা যেন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন না, সরকারের দুর্নীতি ও অপকর্মের সমালোচনা করতে পারবেন না, মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা প্রকাশ করা যাবে না। সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলার খ গ চালানো হবে। তিনি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, চায়ের দাওয়াতের কথা বলে বিএনপির সহ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুককে শেরেবাংলা নগর থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক দেখানো হয়েছে।

এছাড়া গত রাতে সিলেট জেলা সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. কবিরুল হকের বাসায় পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। আমি পুলিশের এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি লন্ডন থেকে তারেক রহমানের দেওয়া কিছু বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি প্রচারিত হয়। এরপর ৬ জানুয়ারি তেজগাঁও থানার পুলিশ তারেক রহমান ও আবদুস সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমতি দিলে ৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহের ওই মামলা করা হয়। মামলায় পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত বছরের ৩ আগস্ট এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারিতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ইটিভির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুস সালামের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। তেজগাঁও থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।