প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্বাসযোগ্য নয়

আইসিবি-ডিবিএ মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে কারসাজি হয়। কারসাজির প্রতিবেদন দিয়েই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ কারণে বাজারের অবস্থা ভালো হচ্ছে না। এই বাজারের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মতো আরও পাঁচ থেকে ১০টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। দুঃসময়ে সেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারকে সমর্থন দিতে পারবে।

গতকাল সোমবার আইসিবির কার্যালয়ে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আইসিবি ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এমন মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালন মো. আবুল হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন ডিবিএ সভাপতি শাকিল রিজভী।

সভায় শাকিল রিজভী বলেন, ‘বর্তমানে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতন হচ্ছে। এই পতন কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেউ জানে না। এজন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা যাচ্ছে না। বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আস্থার অভাব।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার দু’ভাবে তার স্বাভাবিকতায় ফিরবে। আমাদের উদ্যোগে নয়তো প্রকৃতিগতভাবে। যদি আমাদের উদ্যোগে হয়, তাহলে সবার জন্য ভালো। এজন্য বিনিয়োগকারী, ইস্যু ম্যানেজার, ইস্যুয়ার, অডিটর, ব্রোকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সব পক্ষকেই যার যার জায়গায় থেকে জবাবদিহিতা আনতে হবে। আর যদি প্রকৃতিগতভাবে হয়, তাহলে সবকিছু ধ্বংস করার পরে স্বাভাবিক হবে পুঁজিবাজার। এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তার মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও কিছু বিষয় বাজারকে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) একটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরও কয়েকটি সমস্যায় আছে। পুঁজিবাজারের বাজার মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশই হচ্ছে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এই খাতের সমস্যার কারণেও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া অধিক শেয়ার ও রাইট শেয়ার ইস্যুতেও বাজারে প্রভাব পড়েছে। এরসঙ্গে রয়েছে ভালো মানের শেয়ারের স্বল্পতা। ভালো মানের শেয়ার বাড়াতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মন্তব্য করেন শাকিল রিজভী।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে আগের মতো সমর্থন দেওয়ার অবস্থায় নেই আইসিবি, কারণ বাজারের পরিধি বড় হয়েছে। আইসিবি শেয়ার বিক্রির চেয়ে অনেক বেশি কেনে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দেয়, মুনাফা তুলে আনতে পারে না।’

এক দিনের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের মাত্র আট দশমিক সাত শতাংশ অবদান রাখতে পেরেছে আইসিবি। সাধারণত এই হার ৯ শতাংশের ঘরেই থাকে। আমাদের মার্চেন্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে শতাধিক। তাদের মধ্যে যদি আইসিবির মতো আরও পাঁচ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠান এবং ২০ থেকে ২৫টি মার্কেট মেকার থাকত, তাহলে বাজারকে চাহিদামতো সমর্থন দেওয়া যেত।’

তিনি জানান, এখনও আইসিবি বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাঁচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছে মোট দুই হাজার কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এসব টাকার পুরোটাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে।

ডিবিএ সহসভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘বর্তমানে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে শেয়ার কেনা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগকারী। এটি আইপিওর বেলায়ও হচ্ছে, সেকেন্ডারি মার্কেটের বেলায়ও হচ্ছে। লোকসানি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৭০০ টাকা হয়, অথচ লাভজনক কোম্পানির শেয়ারদরে নিয়মিত পতন হচ্ছে। আর্থিক প্রতিবেদন কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, সেজন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বিভিন্ন সংস্থা কীভাবে কাজ করতে পারে তা দেখা দরকার।’

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে কোম্পানির ডিসক্লোজার নিয়ে সমস্যা আছে। প্রথমে আয়ের প্রবৃদ্ধি যা দেখানো হয়, পরে তা কমে যায়। অথচ তালিকাভুক্ত নয় একই পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের হার অনেক বেশি। বর্তমানে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়। তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কিন্তু এখন জনগণের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগকারীর প্রতিনিধিত্ব নেই। সরকারি পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

বক্তারা বলেন,

আইসিবি-ডিবিএ মতবিনিময়

তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্বাসযোগ্য নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে কারসাজি হয়। কারসাজির প্রতিবেদন দিয়েই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ কারণে বাজারের অবস্থা ভালো হচ্ছে না। এই বাজারের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মতো আরও পাঁচ থেকে ১০টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। দুঃসময়ে সেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারকে সমর্থন দিতে পারবে।

গতকাল সোমবার আইসিবির কার্যালয়ে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আইসিবি ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এমন মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালন মো. আবুল হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন ডিবিএ সভাপতি শাকিল রিজভী।

সভায় শাকিল রিজভী বলেন, ‘বর্তমানে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতন হচ্ছে। এই পতন কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেউ জানে না। এজন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা যাচ্ছে না। বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আস্থার অভাব।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার দু’ভাবে তার স্বাভাবিকতায় ফিরবে। আমাদের উদ্যোগে নয়তো প্রকৃতিগতভাবে। যদি আমাদের উদ্যোগে হয়, তাহলে সবার জন্য ভালো। এজন্য বিনিয়োগকারী, ইস্যু ম্যানেজার, ইস্যুয়ার, অডিটর, ব্রোকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সব পক্ষকেই যার যার জায়গায় থেকে জবাবদিহিতা আনতে হবে। আর যদি প্রকৃতিগতভাবে হয়, তাহলে সবকিছু ধ্বংস করার পরে স্বাভাবিক হবে পুঁজিবাজার। এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তার মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও কিছু বিষয় বাজারকে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) একটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরও কয়েকটি সমস্যায় আছে। পুঁজিবাজারের বাজার মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশই হচ্ছে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এই খাতের সমস্যার কারণেও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া অধিক শেয়ার ও রাইট শেয়ার ইস্যুতেও বাজারে প্রভাব পড়েছে। এরসঙ্গে রয়েছে ভালো মানের শেয়ারের স্বল্পতা। ভালো মানের শেয়ার বাড়াতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মন্তব্য করেন শাকিল রিজভী।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে আগের মতো সমর্থন দেওয়ার অবস্থায় নেই আইসিবি, কারণ বাজারের পরিধি বড় হয়েছে। আইসিবি শেয়ার বিক্রির চেয়ে অনেক বেশি কেনে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দেয়, মুনাফা তুলে আনতে পারে না।’

এক দিনের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের মাত্র আট দশমিক সাত শতাংশ অবদান রাখতে পেরেছে আইসিবি। সাধারণত এই হার ৯ শতাংশের ঘরেই থাকে। আমাদের মার্চেন্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে শতাধিক। তাদের মধ্যে যদি আইসিবির মতো আরও পাঁচ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠান এবং ২০ থেকে ২৫টি মার্কেট মেকার থাকত, তাহলে বাজারকে চাহিদামতো সমর্থন দেওয়া যেত।’

তিনি জানান, এখনও আইসিবি বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাঁচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছে মোট দুই হাজার কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এসব টাকার পুরোটাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে।

ডিবিএ সহসভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘বর্তমানে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে শেয়ার কেনা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগকারী। এটি আইপিওর বেলায়ও হচ্ছে, সেকেন্ডারি মার্কেটের বেলায়ও হচ্ছে। লোকসানি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৭০০ টাকা হয়, অথচ লাভজনক কোম্পানির শেয়ারদরে নিয়মিত পতন হচ্ছে। আর্থিক প্রতিবেদন কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, সেজন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বিভিন্ন সংস্থা কীভাবে কাজ করতে পারে তা দেখা দরকার।’

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে কোম্পানির ডিসক্লোজার নিয়ে সমস্যা আছে। প্রথমে আয়ের প্রবৃদ্ধি যা দেখানো হয়, পরে তা কমে যায়। অথচ তালিকাভুক্ত নয় একই পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের হার অনেক বেশি। বর্তমানে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়। তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কিন্তু এখন জনগণের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগকারীর প্রতিনিধিত্ব নেই। সরকারি পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

বক্তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের পরিসর ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে হবে। গত ৯ বছরে ৯০টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪০টি কোম্পানির অডিটর ও ইস্যু ম্যনেজার মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান। মোটাদাগে বললে, এটি স্বাভাবিক নয়। বাজারে সুশাসন আনতে হবে। আইপিও আনলেই হবে না, ভালো মানের শেয়ার বাজারে আনতে হবে।

সভায় আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচলক মোসাদ্দেক উল আলমসহ আইসিবি ও ডিবিএর সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মিউচুয়াল ফান্ডের পরিসর ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে হবে। গত ৯ বছরে ৯০টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪০টি কোম্পানির অডিটর ও ইস্যু ম্যনেজার মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান। মোটাদাগে বললে, এটি স্বাভাবিক নয়। বাজারে সুশাসন আনতে হবে। আইপিও আনলেই হবে না, ভালো মানের শেয়ার বাজারে আনতে হবে।

সভায় আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচলক মোসাদ্দেক উল আলমসহ আইসিবি ও ডিবিএর সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..