প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তালিকাভুক্ত সাত কোম্পানির ব্যাংকঋণ ৫ হাজার কোটি টাকা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ : ব্যাংকঋণের ঝুঁকিতে রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাত প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে এ ঋণের পরিমাণ পাহাড়সম। সম্মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ হচ্ছে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও পরিশোধিত মূলধনের আনুপাতিক হার ৩ঃ৮২। অর্থাৎ পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় ঋণ প্রায় চারগুণ। অ্যাকাউন্টিং মানদণ্ডে একে বলা হয় ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিভারেজ’। অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ঝুঁকিতে থাকা সাত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিএসআরএম স্টিল, ডেসকো, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, এমআই সিমেন্ট, প্রিমিয়াম সিমেন্ট, ডরিন পাওয়ার ও ওরিয়ন ফার্মা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাতটি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ পাঁচ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৩৪২ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত মূলধনের কত গুণ ঋণ নিতে পারবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ঠিক করে দেওয়া উচিত। কোনো নীতিমালা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছামতো ঋণ নিতে পারে। ফলে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন ‘এ রকম ঋণ থাকা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ঋণ বেশি থাকলে প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ঝুঁকি বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। আর প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ ঋণ বেশি থাকলে কোম্পানির দায় বেড়ে যায়। কারণ কোম্পানি যে মুনাফা করবে, সেখান থেকে সবার আগে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। এরপর সরকারকে কর দিতে হয়। সব কিছু বাদ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়।’

ডিএসইর তথ্যমতে, ঋণগ্রস্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ডরিন পাওয়ার। এ প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৬২১ কোটি টাকা, যা পরিশোধিত মূলধনের সাড়ে ছয়গুণ। পরের অবস্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি টাকা। অথচ এ কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ৫৬৬ কোটি টাকা, যা মূলধনের তুলনায় সাড়ে পাঁচগুণ।

একইভাবে বিএসআরএম স্টিলের ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচগুণ। ডিএসইতে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় মিলে ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ২১৪ কোটি টাকা।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৬৬৮ কোটি টাকা। এ ঋণ পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় সাড়ে চারগুণ। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা। একইভাবে এমআই সিমেন্টের পরিশোধিত মূলধনও ১৪৮ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৫১৮ কোটি টাকা।

পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় বেশি ঋণ থাকার  বিষয়ে ওয়েস্টার্ন মেরিনের কোম্পানি সচিব শাহাদাত হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য অনেক ক্যাপিটালের দরকার হয়, সেই জন্য ঋণটাও একটু বেশি। আমি মনে করি, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো উচিত।’

‘এ ধরণের ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রেশিওর হিসাব করতে গেলে এটা ঝুঁকিপূর্ণ বলা যায়। তবে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দিক বিচার করলে এ ঋণকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি না।’

ওরিয়ন ফার্মার ব্যাংকঋণের পরিমাণ ৫৭৫ কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ২৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির ঋণঝুঁকি রয়েছে আড়াই গুণ।

অপর প্রতিষ্ঠান ডেসকোর ব্যাংকঋণ রয়েছে এক হাজার ৫৩ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ আড়াই গুণের বেশি।