প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ আটজন গ্রেপ্তার

মসজিদে বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় তিতাস গ্যাসের চার প্রকৌশলীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।গ্রেপ্তারকৃত আটজনকে এরই মধ্যে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল তিতাস কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সকালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিআইডির ডিআইজি মাঈনুল হাসান জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑতিতাস গ্যাস ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম (৪২), উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী (৩৪), সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার (৩২), সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া (৩৩), সিনিয়র সুপারভাইজার মুনিবুর রহমান চৌধুরী (৫৬), সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী (৫৮), হেল্পার হানিফ মিয়া (৪৮) ও কর্মচারী ইসমাইল প্রধান (৪৯)।

দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মাঈনুল বলেন, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গাফিলতি থাকায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাময়িক বহিষ্কৃত তিতাসের এ আট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটক করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

মাঈনুল জানান, ‘মামলার তদন্তের কাজ অগ্রসর হয়েছে। তিতাসের কর্মকর্তাদের অবহেলার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। মসজিদ কমিটির গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে।’

ওই ঘটনায় পরদিন তিতাস, ডিপিডিসি, মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে ‘অবহেলাজনিত মুত্যু সংঘটনের’ অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মামলা দায়ের করে, যার তদন্ত করছে সিআইডি।

সে রাতের ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ছয়টি এসি একসঙ্গে বিস্ফোরিত হওয়ার কথা বলা হলে পরে গ্যাস থেকে দুর্ঘটনা ঘটার কথা বলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশন পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে অনিয়ম ও গাফিলতির নানা তথ্য।

বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাস মসজিদের উত্তর পাশের সড়কের মাটি খুঁড়ে পরিত্যক্ত পাইপলাইনে ছয়টি ছিদ্র দেখতে পান। ছিদ্র পাওয়ার পর সোমবার তিতাসের চার কর্মকর্তাসহ আটজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের এ ঘটনায় দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জন হলো।

ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মারা যান অগ্নিদগ্ধ আবদুল আজিজ (৪০)। এরপর দুপুরে ফরিদ নামে অন্যজনেরও মৃত্যু হয় বলে ইনস্টিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান।

এ দুজনই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ আর তিনজন এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শরীয়তপুরের নড়িয়া কেদারপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আজিজের দেহের ৪৭ শতাংশ পুড়েছিল। ময়মনসিংহের ত্রিশালের আবদুর রহমানের ছেলে ফরিদের (৫৫) দেহের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দুজনের শ্বাসনালিও পুড়ে যাওয়ায় অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে একজন শুধু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে পটুয়াখালীর চুন্নু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কেনান (২৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নিউখানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে রিফাত (১৮) এবং নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের বসিরহাট গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে আমজাদ (৩৭)। সবারই শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় কেউ শঙ্কামুক্ত নন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..