প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তিন ট্রিলিয়ন ডলার কোম্পানি হওয়ার পথে অ্যাপল

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অ্যাপল ইনকরপোরেশনের বাজারমূল্য তিন ট্রিলিয়ন ডলার বা তিন লাখ কোটি ডলার ছুইছুই। অ্যাপলই বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গত বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানিটি প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। খবর রয়টার্স।

গত সোমবার অ্যাপলের শেয়ারদর দুই শতাংশ বেড়ে ১৭৫ দশমিক ৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এখন তিন ট্রিলিয়ন ডলার কোম্পানিতে পরিণত হতে অ্যাপলের শেয়ারমূল্য উঠাতে হবে ১৮২ দশমিক ৮৬ ডলার।

গত সপ্তাহে অ্যাপলের শেয়ারদর প্রায় ১১ শতাংশ বাড়ে। অ্যাপলের নানা পণ্য যেমন আইফোন ও ম্যাকবুক বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য সেবা যেমন অ্যাপল টিভি ও অ্যাপল মিউজিকের কদর বাড়বে এমন খবর বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তোলে। বিনিয়োগের বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ‘নিরাপদ স্বর্গ’ হিসেবে দেখছেন তারা। তাই চলতি বছর ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ে এর শেয়ারদর।

এর মধ্য দিয়ে আইফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১৬ মাসের মাথায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য থেকে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি চলে আসল। এতে তাদের আরও পেছনে পড়ে গেল অন্য দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন ও আমাজন।

এর আগের বছর এক ট্রিলিয়ন ডলার (১ লাখ কোটি ডলার) থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের (২ লাখ কোটি ডলার) কোম্পানিতে পরিণত হয় অ্যাপল। এতে সময় নেয় দুই বছর।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ফ্রাঙ্ক ক্যাপিটালের একজন পোর্টফোলিও ম্যানেজার ব্রায়ান ফ্রাঙ্ক বলেন, ‘অ্যাপলই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এ অবস্থান বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’

সূচকের সব উত্থানে ভূমিকা রেখেছে অ্যাপল বলে জানিয়েছেন ফ্রাঙ্ক।

বিনিয়োগকারীরা অ্যাপল কার, নানা ধরনের অ্যাপ, অ্যাপল টিভি প্রভৃতি বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে মনে করেন সিনোবাস ট্রাস্ট কোম্পানির জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ম্যানেজার ডেনিয়েল মরগান।

তিন ট্রিলিয়ন ডলারে পরিণত হলে প্রধান নির্বাহী টিম কুকের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হবে। তিনি ২০১১ সালে স্টিভ জবসের স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ওয়ানডা অ্যানালিস্ট এডওয়ার্ড ময়া বলেন, ‘১০ বছর ধরে টিক কুক চমৎকার কাজ করেছেন। তিনি এ সময় অ্যাপলের শেয়ারদর এক হাজার ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।’

অ্যাপলের শেয়ার ১৯৯০ সালে ২২ শতাংশ ছাড়ায়। ওই সময় এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বাৎসরিক ৯ শতাংশে অবস্থান করত।

অ্যাপল তিন ট্রিলিয়ন ডলারে কোম্পানি হয়ে গেলে দুই ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবে একা পড়ে থাকবে মাইক্রোসফট করপোরেশন। এর পেছনে এক ট্রিলিয়ন ডলারে থাকবে অ্যালফাবেট, আমাজন ও টেসলা।

এদিকে মাইক্রোসফটের বাজারমূল্য প্রায় দুই দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে গত অক্টোবরে। এতে তারা অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে। কারণ স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও যন্ত্রাংশের ঘাটতি নিয়ে টিম কুকের মন্তব্যের পর অল্প সময়ের জন্য মাইক্রোসফটের কাছে সবচেয়ে বেশি বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানের মুকুট হারিয়েছিল অ্যাপল। তখন অ্যাপল জানিয়েছিল, বছরের বাকি সময়টা তাদের, তারাই রাজত্ব করবে প্রযুক্তি বিশ্বে। ঘটেছেও তাই।

কভিডকালে ক্লাউডভিত্তিক সেবায় মনোনিবেশ করা, ক্রেতাদের নতুন পণ্যের প্রতি আকৃষ্ঠ হওয়াসহ প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে এ খাতের শেয়ারদর বেড়েছে। চলতি বছর নাসডাক ১০০ সূচক শীর্ষে ওঠে অ্যাপলের ২৬ শতাংশ শেয়ার বাড়ার কারণে। একই সময় এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বাড়ে ২৪ শতাংশ।

কভিড মহামারি ও এর প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও উদীয়মান প্রযুক্তি যেমন, ফাইভজি, আগমেন্টেড বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতি অ্যাপলের এ উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

তিন ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হলে জার্মানির পর বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির তকমা পাবে অ্যাপল।