বিশ্ব সংবাদ

তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে চীনের প্রবৃদ্ধি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। গত তিন দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে শ্লথগিত দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় এমন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: রয়টার্স।

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ছয় দশমিক দুই শতাংশ, যা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম। ১৯৯২ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ছিল সবচেয়ে শ্লথগতি। বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করেছিলেন প্রবৃদ্ধি হবে ছয় দশমিক এক শতাংশ। চলতি অর্থবছর চীন সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছয় থেকে ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। প্রতি প্রান্তিকেই প্রবৃদ্ধি কমছে। তাই সরকারের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে।

চলতি বছরে অর্থনীতিকে চাঙা করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয় চীন। ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কর কমিয়েছে সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই অর্থনীতির গতি বাড়েনি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছয় দশমিক চার শতাংশ। গত বছর ছিল ছয় দশমিক ছয় শতাংশ। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট হারে কমে যাচ্ছে অর্থনৈতিক গতি। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, দেশের বাইরে ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে।

শুল্কের বোঝা চাপিয়ে চীনকে কোণঠাসা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ চাপে আত্মসমর্পণ না করে চীনও তিন হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্কারোপ করে। যদিও সম্প্রতি ১৫ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে সবশেষ আলোচনায় শুল্কযুদ্ধ আপাতত স্থগিত রাখতে দুই দেশ একমত হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক শুল্কযুদ্ধ স্থগিতের কারণে বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এতে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।

ওয়াশিংটনে দু’দিনের আলোচনা শেষে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যস্থতাকারীরা ‘প্রথম পর্বের চুক্তিতে’ উপনীত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উভয় দেশই পরস্পরের পণ্য আমদানিতে হাজার হাজার কোটি ডলারের শুল্কারোপ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের আরও অনেক দেশের ওপর। ফলে তারা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ..