প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তিন দিনেই বাজার মূলধন বাড়ল সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা

ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধির জের

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ

বড় পতনের রেশ কাটিয়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পুঁজিবাজার। বাড়তে দেখা গেছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। এর জের ধরে বাড়ছে সূচক ও বাজার মূলধন। গত তিন কার্যদিবসের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূলধন বেড়েছে চার হাজার কোটি টাকার বেশি।

তিন কার্যদিবস আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৮২ হাজার কোটি টাকা। গতকাল তা বেড়ে হয়েছে তিন লাখ ৫৯ হাজার ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বাজার মূলধন বেড়েছে চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এই সময়ের মধ্যে প্রধান সূচক বেড়েছে ৯৩ পয়েন্ট। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে সূচক বেড়েছে ৩১ পয়েন্ট। তিন কার্যদিবস আগে সূচকের অবস্থান ছিল চার হাজার ৬৭৮ পয়েন্ট, গতকাল যা স্থির হয়েছে ৪ হাজার ৭৭১ পয়েন্টে। এ সময়ে লেনদেন ২৬৯ কোটি থেকে ৩৬৭ কোটি টাকায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

এদিকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাজার স্থিতিশীল হবে, এমন প্রত্যাশা নিয়ে ফিরে আসছেন তারা। কিন্তু বাজারে ফিরেও তারা স্বস্তিতে নেই। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সম্প্রতি লেনদেন কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। কারণ বহুদিন থেকে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নেই। ফলে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বলেন, হঠাৎ আলোর ঝিলিক নয়, আমরা পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা দেখতে চাই, সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে যা একেবারে নেই বললেই চলে। এদিকে বড় পতন থামার পর বদলে গেছে ব্রোকারেজ হাউজের চিত্র। গতকাল হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের সন্তোষজনক উপস্থিতি ছিল। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হওয়ায় বাজারের চেহারা বদলে গেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজে ফিরলেও তাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তারা জানান, পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ালেও তা স্থিতিশীল হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চান। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়। তারা সক্রিয় থাকলে বাজার আরও ভালো হবে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

হাউজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, দীর্ঘদিন পরে বিনিয়োগকারীরা হাউজে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। পুরুষের পাশাপাশি সচল হচ্ছে নারীদের বিও হিসাবও। এটাকে বাজারের শুভ লক্ষণ বলে মনে করছেন ব্রোকারেজ হাউজের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা লেনদেন না করলে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নিতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়। সে সময় আমরা বাধ্য হয়েই কর্মী ছাঁটাই করি। তিনি বলেন, একসময় আমাদের হাউজে লেনদেন হতো ১০০ কোটি টাকা। পরে তা অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। এখন বাজার ভালোর দিকে যাচ্ছে। আশা করছি আমাদেরও সুদিন ফিরে আসবে। তবে এর জন্য দরকার ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা।

উল্লেখ্য, ২০১০-১১ সময়ে পুঁজিবাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তখন হাউজগুলো বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে তাদের শাখা খোলে। কিন্তু বাজারে ধস নামার পর থেকে কমতে থাকে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর আয়। কর্মী ছাঁটাই করে ব্যয় কমায় হাউজগুলো। এ সময় কয়েকটি হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে এ পরিস্থিতি নেই। ডিএসইর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ২৫০টি ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে ২৩৪টি হাউজ তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।

গত বছরের শেষদিক থেকে অবিরাম দরপতন শুরু হয়। প্রতিদিনই পোর্টফোলিও থেকে পুঁজি উধাও হতে থাকে। সব খাতের শেয়ারের একযোগে দরপতন হয়ে বাজার পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এই পরিস্থিতি কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও স্বরূপে ফেরেনি পুঁজিবাজার।

সর্বশেষ..