তিন বছরের সর্বোচ্চে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন

এক বছরে বাড়ল ৩২%

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: কভিড-১৯-এর ভয়াল তাণ্ডবে ২০২০ সালে থমকে যায় বিশ্ব, এখনও যা চলমান রয়েছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সামাজিক, অর্থনৈতিক খাতসহ সব খাত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ধাক্কাটা সামাল দিতে হয়েছে সব দেশকে। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম রয়েছে পুঁজিবাজারে।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাজার মূলধন থেকে শুরু করে সূচক, লেনদেনÑসবকিছুই উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ৩২ শতাংশ বেড়ে গত তিন বছরের সর্বোচ্চ স্থানে চলে গেছে।

বিদায়ী বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে থমকে যায় পুরো দেশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে একে একে সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হতে থাকে। পরে ২৬ মার্চ থেকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ডিএসইর মূল মার্কেটে লেনদেন ৪০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। এ সময় দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনও তলানিতে নেমে আসে। তবে টানা ৬৬ দিন পর আবার লেনদেন চালু হলে ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। বাড়তে থাকে সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধন।

আগস্টে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ উত্থান হয়েছে, যা ছিল বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনামের পুঁজিবাজারে উত্থান হয়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। সাত দশমিক ৪০ শতাংশ উত্থানের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে ছিল রোমানিয়া। এছাড়া মে মাসের শেষে পুঁজিবাজারে আবার লেনদেন চালুর পর আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২০ শতাংশ বাড়ে, যার জের ধরে দেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি বাড়তে থাকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন। ফলে বছর শেষে তিন বছরের রেকর্ড অবস্থানে আসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৩৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৯ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৮৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ছয় দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়েছে দুই হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বা ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এদিকে বিষয়টি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সবসময় বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিনিয়োগ করেন। ২০২০ সালের বেশিরভাগ সময়ই বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি ক্রয়যোগ্য অবস্থানে ছিল বেশিরভাগ শেয়ার, যা এখনও রয়েছে, যে কারণে বিদেশিদের লেনদেন বেড়েছে। আর তারা বিনিয়োগ বাড়ালে দেশি বিনিয়োগকারীরাও বাজারের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেক বুঝেশুনে বিনিয়োগ করেন। এখন অনেক ভালো ভালো শেয়ারের দর তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তারা হয়তো এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন, যে কারণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন তারা। আমার মনে হয়, সব ধরনের বিনিয়োগকারীর এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সময়। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিদেশিরা ফিরে আসছেন, এটা ভালো খবর। তবে বিনিয়োগ নিয়ে এখনও কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছি আমরা। কারণ হঠাৎ করে যদি তারা উল্লেখযোগ্যহারে বিনিয়োগ তুলে নেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, সবাই পুঁজিবাজারে আসে লাভ করার জন্য। সুযোগ এলে সবাই তা কাজে লাগাতে চান। বিদেশিরাও এর বাইরে নন। যে কোনো সময় তারা বিনিয়োগ তুলেই নিতে পারেন। এজন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। তাদের উচিত, নিজেদের ইচ্ছামতো ভালো মানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২৭  জন  

সর্বশেষ..