প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তিন বছরে অভিযান ১৫ হাজার, জরিমানা আদায় ৩৭ কোটি টাকা

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর

হামিদুর রহমান: বিভিন্ন প্রতারণা ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে গ্রাহকের সচেতনতা বাড়ছে। এতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগও বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি স্বপ্রণোদিত হয়েও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এতে গত তিন বছরে প্রায় ১৫ হাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের তথ্যমতে, পচা-বাসি বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ভেজাল পণ্য তৈরি, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং নির্ধারিত দামের অধিক দামে পণ্য বিক্রিসহ সংগঠিত ভোক্তাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অভিযোগ আসে ছয় হাজার ১৪০টি। এছাড়া সে বছর তিন হাজার ৪৩৭টি বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সব মিলিয়ে ওই সময় এসব অভিযানে প্রায় ছয় কোটি ৮৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ হারে অভিযোগকারী এক হাজার ৪২০ ভোক্তাকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৭৭ টাকা। আর সরকারি কোষাগারে দেওয়া হয়েছে প্রায় ছয় কোটি ৭১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে অভিযোগ জমা পড়ে ৯ হাজার ১৯টি। এছাড়া চার হাজার ৭৭টি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি সবগুলো অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়। আর জরিমানা আদায় করা হয় প্রায় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৯১০ অভিযোগকারী ভোক্তাকে ২৫ শতাংশ হারে দেওয়া হয় ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি টাকা অর্থাৎ প্রায় ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাত হাজার ৫১৫টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার সবগুলোই নিষ্পত্তি করা হয়। আর বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয় সাত হাজার ৩৪৩টি। এর মাধ্যমে জরিমানা আদায় হয় প্রায় ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৩৮ হাজার চাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৪৬১ অভিযোগকারীকে দেওয়া হয় প্রায় ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। আর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় প্রায় ১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে তিন বছরে অভিযান চালানো হয় ১৪ হাজার ৮৫৭টি। আর জরিমানা আদায় করা হয় ৩৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু গত বছরই অভিযান বেড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি।
তথ্যমতে, গ্রাহকের করা বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল খাদ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ। পরের অবস্থানে রয়েছে পরিমাপে বা পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি। এরপর রয়েছে যথাক্রমে নকল পণ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া, ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, ওজন বা ওজন পরিমাপে কারচুপি ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা।
ভোক্তারা জানান, দেশের পণ্যে ভেজাল বা অনিয়মের যে পরিস্থিতি চলছে, সে অনুযায়ী বর্তমানের চেয়ে আরও ১০ গুণ বেশি অভিযোগ আসা উচিত। ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি বেশি প্রচার করা উচিত, যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা অভিযোগ করতে পারেন এবং সেবা নিতে পারেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ করতে হয়। অভিযোগকারীর কাছে অবশ্যই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বা সেবা নেওয়ার রসিদ থাকতে হয়। মোবাইল ফোনে এসএমএস করে, ফ্যাক্স বা ই-মেইলে অভিযোগ করা যায়। অধিদফতরের ওয়েবসাইটে থাকা অভিযোগ ফরম পূরণ করেও অভিযোগ করা যায়।
ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুম আরেফিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে মানুষ সচেতন হওয়ায় অভিযোগ বাড়ছে। এখানে অভিযোগ করার সাত দিনের মধ্যে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের কাছে অধিদফতর থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর দু’পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়। তবে কোনো পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করার প্রয়োজন হলে সময় বেশি লাগে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..