প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তিন মাসে আমানত বেড়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা

এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত বেড়েছে এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা বিভিন্ন ধরনের হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ২৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রতি হিসাবে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৪৬৭ টাকা আমানত জমা হয়েছে। অথচ গত মার্চেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা হিসাবগুলোতে আমানত ছিল তিন হাজার ৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তখন হিসাব প্রতি গড় আমানত ছিল ১২ হাজার ৮৪৮ টাকা। তিন মাসে আমানত
বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ।
তথ্য ঘেটে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামে পাঁচগুণ বেশি হিসাব খোলা হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৭২টি হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে শহরে খোলা হয়েছে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৪টি হিসাব এবং গ্রামাঞ্চলে খোলা হয়েছে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯৩৮টি হিসাব। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে প্রায় পাঁচগুণ বেশি হিসাব খোলা হয়েছে। গত মার্চে এ খাতের হিসাব সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৫টি। সেই হিসেবে আলোচ্য তিন মাসে এ খাতের হিসাব বেড়েছে ১৮ শতাংশ।
নারী হিসাবধারীর তুলনায় পুরুষ হিসাবধারীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পুরুষ গ্রাহকের হিসাব ছিল ২১ লাখ ৬০ হাজার ৬১৮টি এবং নারী গ্রাহকের হিসাব ছিল ১২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৫টি।
এজেন্ট ও আউটলেট বিস্তৃতির দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক এশিয়া লি.। তবে হিসাব সংখ্যার বিবেচনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লি. শীর্ষে রয়েছে। এ ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাব মোট হিসাবের ৪৫ শতাংশ। হিসাব খোলার সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যাংক এশিয়া লি. দ্বিতীয় ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি. তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ তিনটি ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে মোট হিসাবের ৮০ শতাংশেরও বেশি হিসাব খোলা হয়েছে। এছাড়া, মধুমতি ব্যাংক লি., ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লি. ও এনআরবি ব্যাংক লি. এর এজেন্ট বা আউটলেটের মাধ্যমে সবগুলো হিসাব গ্রামাঞ্চলে খোলা হয়েছে।
আমানত সংগ্রহের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। গত জুন শেষে এ ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে আমানতের স্থিতি ছিল প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হিসাবগুলোতে আমানত ছিল প্রায় এক হাজার ১৫২ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে আমানত ছিল ৯৮ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
আলোচ্য ত্রৈমাসিকে আমানতের প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল অগ্রণী ব্যাংক। গত মার্চ শেষে এ ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে আমানতের স্থিতি ছিল ৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জুন শেষে আমানতের স্থিতি দাঁড়ায় ৪৬৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকায়।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক মোট ২৩৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। শহরের তুলনায় গ্রামে ঋণ প্রবাহের পরিমাণ চার দশমিক ৩৫ গুণ বেশি। সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক এশিয়া। এ ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২১১ কোটি টাকা। যা এ খাতের মোট ঋণের ৮৯ শতাংশ। এছাড়া ঋণ বিতরণের দিক দিয়ে সিটি ব্যাংক দ্বিতীয় এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ব্যাংকের শাখার মতো এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলো তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে ও দ্রুততম সময়ে রেমিট্যান্স সেবা দিচ্ছে। গত জুন পর্যন্ত ১৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে আট হাজার ৫৭৬টি আউটলেটের মাধ্যমে মোট ৯ হাজার ৩৪৯ কোটি পাঁচ লাখ টাকা রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে বিতরণকৃত রেমিট্যান্সের পরিমাণ মোট আট হাজার ৩৭৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং শহরাঞ্চলে বিতরণকৃত রেমিট্যান্সের পরিমাণ মোট ৯৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। রেমিট্যান্স বিতরণের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ সর্বস্তরের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ২০১৩ সাল থেকে এজেন্ট
ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয়। এর মধ্যে ২১টি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ১৯টি ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে।

সর্বশেষ..