প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তিন মাস পর দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি ঊর্ধ্বমুখী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যদ্রব্য রফতানির পরিমাণ তিন মাস নি¤œমুখী থাকার পর গত মাসে কিছুটা বেড়েছে। এ চিত্র নিষ্প্রভ রফতানি শিল্প পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর সিনহুয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য ব্যাংক অব কোরিয়ার (বিওকে) তথ্যমতে, নভেম্বরে দেশটির রফতানি সূচক বেড়ে ১৪২ দশমিক ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ছয় শতাংশ বেশি। তিন মাস পর এ প্রবৃদ্ধি হলো। এছাড়া আট মাসের মধ্যে এ প্রবৃদ্ধিই সর্বোচ্চ।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য পতন সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানির ইতিবাচক চিত্র নিষ্প্রভ রফতানি শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। রফতানি পরিমাণ বাড়াতে কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতি সরঞ্জামের চালান বড় ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির অর্ধেক আসে রফতানি খাত থেকে।

পরিমাণের দিক থেকে নভেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটি থেকে যন্ত্রপাতি রফতানি বেড়েছে ২৮ দশমিক আট শতাংশ। ধাতু পণ্য রফতানি বেড়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়া কেমিক্যাল চালান ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

তবে গত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়  ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস এক দশমিক দুই শতাংশ কমেছে। তবে অক্টোবরের চেয়ে এটি ভালো ছিল। ওই সময়ে আগের বছরের চেয়ে কমেছিল সাত দশমিক চার শতাংশ। গত মাসে গাড়িসহ পরিবহন সরঞ্জাম রফতানি বেড়েছে দুই শতাংশ। আগের মাসে এ খাতে রফতানি কমেছিল ১০ দশমিক সাত শতাংশ।  বিশ্বের দশম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অর্থনীতির জন্য সামগ্রিকভাবে এ বছর ভালো যায়নি। একের পর এক কোরীয় কনগ্লোমারেট নানা কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বহুল আলোচিত নোট৭ স্মার্টফোন বিস্ফোরণের কারণে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসকে বিপুল পরিমাণ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও স্যামসাংকে ইমেজ সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম ও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম নৌপরিবহন কোম্পানি হানজিন শিপিং লাইনস ভেঙে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম রিটেইলার লোটে গ্রুপের কর্ণধারকে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসভঙ্গের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ সংস্থা স্যামসাং, হুন্দাই, এসটিএক্স; গাড়ি নির্মাতা হুন্দাই ও ইস্পাত কোম্পানি পসকো পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। করপোরেট কোরিয়ার এ দুর্দশার মধ্যে বাড়তি শঙ্কার কারণ হয়ে এসেছে কোরীয় পরিবারগুলোর রেকর্ড পরিমাণ ঋণ।