প্রচ্ছদ শেষ পাতা

তিন সেবা নিয়ে যশোরে ভ্যাটমেলা

# ছয়দিনে প্রায় দুই হাজার করদাতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে

# প্রথমবার যশোর ভ্যাট কমিশনারেট ভ্যাট মেলার আয়োজন করেছে

# যশোরের মতো মেলা করতে সব কমিশনারেটকে এনবিআরের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল আর ট্যাক্সপেয়ার লার্নিং এ তিন সেবা নিয়ে ভ্যাটমেলা করেছে যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। কমিশনারেট প্রাঙ্গণে চলছে সপ্তাহব্যাপী মেলা, যা আজ শেষ হচ্ছে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পর প্রথমবার কোনো ভ্যাট কমিশনারেট এমন আয়োজন করল।

মেলায় আগত করদাতারা নতুন ভ্যাট আইন, অনলাইনে নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল বিষয়ে জানতে পারছেন। শুধু করদাতা নন, ভ্যাট কর্মকর্তারাও মেলার মাধ্যমে নতুন আইন আর অনলাইন নিবন্ধন, রিটার্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, যা পরবর্তীকালে তাদের কাজে লাগবে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে মাত্র দুই মিনিটে অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন আবেদন আর ২০ মিনিটে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সেবা নিচ্ছেন। মেলায় গতকাল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

যশোর ভ্যাট কমিশনারেট কর্মকর্তারা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে ভ্যাটের সব সেবা অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২। আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে করদাতা প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ১৩ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধনের পাশাপাশি ভ্যাট রিটার্ন দাখিল (দাখিলপত্র) করতে হয়। করদাতারা যাতে দাখিলপত্র ঘরে বসেই জমা দিতে পারেন, সেজন্য প্রশিক্ষণমূলক ভ্যাটমেলার আয়োজন করে যশোর ভ্যাট কমিশনারেট। প্রথমবারের মতো এ মেলার উদ্বোধন হয় ১০ ডিসেম্বর। মেলা চলে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলায় করদাতাদের অনলাইনে দাখিলপত্র কীভাবে জমা দিতে হয়, তা শেখানো হচ্ছে, যাতে পরবর্তীকালে তারা ঘরে বসে জমা দিতে পারেন।

অপরদিকে, করদাতাদের ব্যাপক সাড়া থাকায় মেলার সময় ১৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ মেলার সময় তিনদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মেলায় অনলাইনে ভ্যাট প্রদান ও রিটার্ন দাখিল করে আসা একজন সুপারশপের মালিক বলেন, সুপারশপ ব্যবসার জন্য প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে ভ্যাট অফিসে গিয়ে ভ্যাট চালান ও রিটার্ন দাখিল করতে অতিরিক্ত সময় অপচয় হতো। জমা দিতে একাধিক চালান ও রিটার্ন তৈরি করতে হতো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট অফিসে যাওয়া লাগত। মেলায় শিখে আসার পর এখন ঘরে বসে অনলাইনে লগইন করে রিটার্ন দাখিল করতে পারব। তিনি বলেন, অনেকের ধারণা, কম্পিউটার জানি না, অনলাইনে কীভাবে লগইন করব, রিটার্ন দেব। মেলায় বা ভ্যাট কমিশনারেট থেকে যেভাবে সাহায্য করা হচ্ছে, তাতে একজন করদাতার সমস্যা হওয়ার কথা নয়। একজন মানুষ ফেসবুক চালাতে পারলে অনলাইনে চালানের মাধ্যমে ভ্যাটও দিতে পারবে।

একটি হস্তশিল্পপণ্যের শোরুমের সহকারী ম্যানেজার নিশি বলেন, আগে আমরা অফলাইনে ভ্যাট দিতাম, সেটা আমাদের জন্য সমস্যা ছিল। অনেক সময় লাগত, যেটা আমাদের শোরুমে দিতে পারলে লাভবান হতাম। অনেক সময় ভ্যাট অফিসে ভ্যাট জমা দিতে গিয়ে তাদের পাই না। এখন আমরা অনলাইনে ভ্যাট দিচ্ছি, যা খুবই সুবিধাজনক। ভ্যাট দিতে গিয়ে যে সমস্যা হতো, এখন আর তা হচ্ছে না; সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে। ভ্যাটমেলায় ভ্যাট ও রিটার্ন দিয়েছি। কর্মকর্তারা খুবই সহযোগিতা করেছেন।

মেলায় আগত এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, আগে রিটার্ন দাখিলে একদিন সময় নিয়ে আসতে হতো। অনেক সময় কমিশনারের সই হয়নি, নানা সমস্যায় দু-তিন দিন সময় ব্যয় হতো। এখন ঘরে বসে দিতে পারব। এতে আমার মতো নারী উদ্যোক্তাদের সময় ও খরচ বাঁচবে।

মেলার বিষয়ে যশোর ভ্যাট কমিশনার জাকির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, অনলাইন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন রিটার্ন ও ট্যাক্স লার্নিংয়ে তিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। মেলায় আগত করদাতাদের ‘করদাতার দায়দায়িত্ব’ নামে একটি বুকলেট দেওয়া হচ্ছে, যাতে করদাতা বুঝতে পারেন তার দায়দায়িত্ব কী। ডাইরি, কলম দেওয়া হচ্ছে। শীত থাকায় আগতদের জন্য আয়োজন থাকছে পিঠার। গত ছয় দিনে প্রায় দুই ট্যাক্সপেয়ারকে সেবা দেওয়া হয়েছে। রিটার্ন দাখিল, নিবন্ধন নিয়েছেন প্রায় ২০০ জন। বাকিরা অনলাইনে নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি জানতে এসেছেন।

কমিশনার বলেন, মেলার উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের সম্পৃক্ত করা, ভয় কমানো ও করদাতাদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি করা। এছাড়া অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ভ্যাট কর্মকর্তারাও ভালোভাবে প্রশিক্ষিত নন, মেলার উদ্দেশ্য তাদেরও শেখানো। ওইসব ভ্যাট কর্মকর্তা যখন মাঠে কাজ করবেন, তখন ভ্যাট বিষয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, যশোর কমিশনারেট থেকে করদাতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহীরা অনলাইনে নাম নিবন্ধন করলে পরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মো. জামাল হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ভ্যাট দিবস উপলক্ষে যশোর ভ্যাট কমিশনারেট আয়োজিত ভ্যাটমেলা সময়োপযোগী। এ মেলার মাধ্যমে করদাতারা উৎসবমুখর পরিবেশে সরাসরি ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ ও ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পেয়েছেন। তারা হাতে-কলমে নিবন্ধন গ্রহণ ও রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি শিখতে পারছেন। যশোরের মেলায় করদাতাদের দারুণ সাড়া

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..