Print Date & Time : 11 May 2021 Tuesday 1:11 pm

তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়বে বেক্সিমকো

প্রকাশ: March 4, 2021 সময়- 12:51 am

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড সুকুক বন্ড ছেড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ‘সুকুক আল ইসতিসনা’ নামে শরিয়াহ্ভিত্তিক বন্ড ছেড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বেক্সিমকো। আর এ অর্থ কোম্পানিটির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ‘তিস্তা সোলার লিমিটেড’ ও ‘করতোয়া সোলার লিমিটেডের’ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বেক্সিমকোর বস্ত্র খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহে বন্ডের অর্থ ব্যয় করা হবে। সুকুক বন্ডটি দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করা হবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনসাপেক্ষে বন্ড ইস্যুর জন্য একটি স্পেশাল পারপাস  ভেহিকল গঠন করবে বেক্সিমকো। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫০টি সুকুক বন্ড নিয়ে একটি লট নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্ডটির একটি লট কিনতে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় হবে। বন্ডটির ৫০ শতাংশ প্রাইভেট প্লেসমেন্ট, ২৫ শতাংশ বেক্সিমকো লিমিটেডের বিদ্যমান বিনিয়োগকারী এবং ২৫ শতাংশ পাবলিক অফারের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা হবে। এই সুকুকের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

৯ শতাংশ ভিত্তিমূল্যের সঙ্গে মার্জিন যোগ করে ছয় মাস অন্তর বন্ডটিতে বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন দেয়া হবে। বেক্সিমকোর আগের বছরের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ঘোষিত লভ্যাংশ ও ভিত্তিমূল্যের ব্যবধানের ১০ শতাংশ মার্জিন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। যদি লভ্যাংশের হার ভিত্তিমূল্যের সমান বা কম হয়, সেক্ষেত্রে ভিত্তিমূল্যের হিসাবে রিটার্ন প্রদান করা হবে।

সুকুকে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের শতভাগ বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে। এক্ষেত্রে প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে সুকুক শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে। গুণিতক হারে, অর্থাৎ ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ রূপান্তরের সুযোগ থাকছে। কোনো বছর শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ গ্রহণ না করলে সেটি পরবর্তী বছরেও করা যাবে। এ রূপান্তরের মূল্য নির্ধারিত হবে রেকর্ড তারিখের আগের ২০ কার্যদিবসে ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ারের গড় মূল্যের ৭৫ শতাংশ। যদি কোনো বিনিয়োগকারী সুকুককে শেয়ারে রূপান্তর করতে না চান, তাহলে পাঁচ বছরে ওই সুকুকের অবসায়ন হবে।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৬৪ শতাংশ বা এক টাকা ৪০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৮৪ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৮৪ টাকা।

কোম্পানিটি ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৮৭৬ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ পাঁচ হাজার ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৩৩ পয়সা।