প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তুরস্ক সীমান্ত খুলে দেওয়ায় ফের শরণার্থী সংকটে ইউরোপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : সিরিয়ার শরণার্থীদের চাপে বেকায়দায় পড়ে গ্রিসের সীমান্ত খুলে দিয়েছে তুরস্ক। অনেক শরনার্থী গ্রিসে ঢুকে পড়ছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার শরণার্থীর প্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছে গ্রিস। আটকে দেওয়া অনেক শরণার্থীকে তুরস্কের এভরস সীমান্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। শরণার্থী চুক্তি অগ্রাহ্য করে তুরস্ক সীমান্ত খুলে দেওয়ায় গ্রিসে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসছেন। খবর: বিবিসি ও ডয়েচে ভেলে। 

শরণার্থীদের সীমান্ত পাড়ি দিতে তুরস্ক উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রিসের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলকিভিয়াদিস স্টেফানিস। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক কেবল তাদের সমর্থনই করছে না, সহায়তাও করছে।’

তুরস্ক ইইউ শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এ সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্তে ভিড় করেছে। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে সিরীয় সরকারি বাহিনীর হামলায় ৩৩ তুর্কি সেনা নিহত হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়া সংঘাত নিয়ে ইইউ দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টিরই চেষ্টা করছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান বলেছেন, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আর সামলাতে পারবে না তার দেশ। ইইউ’র সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রনটেক্স তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপীয় সীমান্তে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে বলে জানিয়েছে।

২০১৬ সালে ইউরোপমুখী শরণার্থীর ঢল নামার পর তাদের আটকাতে তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল ইইউ। ওই চুক্তির আওতায় তুরস্ক সিরীয়, আফগানসহ অন্যান্য দেশের প্রায় ৩৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এরপর ইইউ’র বিরুদ্ধে ওই চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। ইউরোপের সঙ্গে যেকোনো দরকষাকষিতে তিনি নিয়মিতই শরণার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সিরিয়ার ইদলিবে হামলায় ৩৩ তুর্কি সেনা নিহতের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গত রোববার গ্রিসের সেনা ও পুলিশ ৯ হাজার ৯৭২ শরণার্থীকে তুরস্ক সীমান্তে আটকে দিয়েছে। তারা এদিন সকালে কাস্তানিস বন হয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টায় ছিল বলে জানিয়েছেন গ্রিসের এক কর্মকর্তা। তবে সীমান্তে শরণার্থী আটকানো গেলেও সাতটি নৌকায় করে অন্তত ৫০০ মানুষ গ্রিসের তিনটি দ্বীপে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই দ্বীপগুলোয় শরণার্থী শিবিরগুলোতে তিল ধারণেরও অবস্থা নেই।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ইইউ অভিবাসন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ইইউর বহিঃসীমানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স গ্রিসকে বাড়তি সাহায্যের উদ্যোগ নিচ্ছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তুরস্কের সঙ্গে স্থলসীমান্ত থাকায় সেই দেশটিও চাপের মুখে পড়েছে। ইইউ পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল বলেন, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ইদলিবের আশেপাশে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। গোটা অঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বরেল এ প্রসঙ্গে ইইউ ও তুরস্কের মধ্যে চুক্তি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সিরিয়ায় য্দ্ধুবিরতি ও সংঘর্ষ বন্ধের ডাক দিয়েছেন। তিনি ইইউর পক্ষ থেকে বর্তমান সংকট প্রশমনে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছেন।