মত-বিশ্লেষণ

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ তৈরি করে দিতে হবে

নারী নয়, আবার পুরুষও নয় এরকম এক শ্রেণিকে আমরা প্রায়ই রাস্তাঘাট, দোকানপাট, লোকাল বাসে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে চাঁদা উঠাতে দেখি। আমাদের সমাজে সভ্যশ্রেণির মানুষজন তাদের হিজড়া বলে আখ্যায়িত করে। আমরা তাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি কিংবা কটু দৃষ্টিতে দেখি। এই তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও প্রাচীনকাল থেকেই এরা সমাজে অবহেলিত, নিকৃষ্ট, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণে এরা শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। প্রত্যেকটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মানবাধিকার প্রয়োজন। প্রয়োজন মৌলিক অধিকার। যখন মানুষের এই মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ হয়, তখন তার আর কোনো আকাক্সক্ষা থাকে না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাব মতে, বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার, তবে বেসরকারি হিসাব তা প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি। বিভিন্ন সংগঠনের হিসাব মতে, হিজড়ার সংখ্যা তিন লাখের বেশি হবে। যেহেতু সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে?ছে, তাই অন্যান্য নর-নারীর মতো তারাও নাগরিক অধিকার পাবে। তাদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, তারা ইচ্ছে করে হিজড়া হয়নি। সৃষ্টিকর্তা তাদের সৃষ্টি করেছেন। দৈহিক গঠনে পরিবর্তন আসার আগে তারাও আমাদের মতো তাদের পরিবারের সঙ্গে সুখে-শান্তিতে বসবাস করত। তাই তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা যাবে না। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যান্য দেশের হিজড়াদের মতো তাদের যথাযথ শিক্ষা দিয়ে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সবার মতো তারাও যাতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারে, সে সুযোগ আমাদের করে দিতে হবে। নিজ নিজ মেধার পরিচয় দিয়ে তারাও যাতে তাদের কর্মসংস্থান লাভ করতে পারে সে সুযোগ তাদের তৈরি করে দিতে হবে। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিতে হবে। হিজড়ারা যদি তাদের মৌলিক অধিকার প্রাপ্ত হয়, তবে আর কাউকে বিরক্ত করবে না তারা। তাই তাদের মৌলিক অধিকারসহ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের আত্মনির্ভরশীলভাবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের মানুষের মাঝে এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে, তারা সমাজের বোঝা নয়। তারাও আমাদের মতোই রক্ত মাংসের মানুষ। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, মানবিকতাই পারে তাদের সুস্থ পৃথিবী দিতে।

খন্দকার নাঈমা আক্তার নুন

শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..