পাঠকের চিঠি মত-বিশ্লেষণ

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়েও ভাবতে হবে

পাঠকের চিঠি

করোনার ভয়াল থাবা গ্রাস করছে সারা পৃথিবীকে। বিশ্বের পরাশক্তির রাষ্ট্রগুলো আজ হিমশিম খাচ্ছে করোনার এ তাণ্ডব থামাতে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, বিশ্বের ২১০ দেশ ও অঞ্চল আজ এ ভয়ানক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এ ভয়ানক ব্যাধির ভয়াবহতা থেকে রেহাই পায়নি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও। করোনার ক্ষিপ্রতা যে শুধু স্বাস্থ্য খাতে প্রভাব ফেলেছে তা কিন্তু নয়, আঘাত হেনেছে অর্থনীতিতেও।

করোনার সংক্রমণ থামাতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সেই ধারাবাহিকতায় লক ডাউনের কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে লকডাউনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সব শপিংমল।  রাস্তাঘাটে চলছিল না কোনো গণপরিবহন। বন্ধ হয়ে গেছে ছোট ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান। চাকরি হারা হয়েছেন অনেকেই। একশ্রেণির মানুষ খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে নি¤œবিত্তের জন্য মিলছে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কিংবা ব্যক্তিপর্যায়ের সংগঠনগুলোও তাদের বাড়িয়ে দিচ্ছে সহযোগিতার হাত। এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে চলমান লকডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া এদের সাহায্যে কেউই সেভাবে এগিয়ে আসছে না। না আসছে রাষ্ট্র, না আসছে সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং ধারায় স্পষ্ট বলা আছে কোন লিঙ্গ বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়ারা বরাবরই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সত্যি কথা বলতে তারা প্রথমে তাদের পরিবার থেকেই এ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সবখানে তারা শুধু অপমান, উপহাস, তাচ্ছিল্য আর নিগ্রহের শিকার। শিক্ষা মানুষের একটা মৌলিক অধিকার কিন্তু কয়জন হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজন আজ শিক্ষিত? হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ে  শিশুরা কি আজও স্কুলে যেতে পারছে পুরোপুরি? কোনো পরিবার বা অভিভাবক কি তার সন্তানকে হিজড়া হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে? আমরা তাদের জন্য কতটুকু বা ন্যায্যতার গান গাই। অথচ তাদের জš§ও তো আমাদের মতো এ রাষ্ট্রে। পাছে একটা প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। লোকলজ্জার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ অসামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।

ভাবতে হবে সমাজে তাদের কেন যথাযথ কর্মসংস্থান নেই? সম্মানজনক কোনো একটি কাজ করে জীবন চালানোর মতো একটি সামাজিক বাস্তবতা কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি? বা কেন পারছি না? সমস্যাটা তবে কোথায়? দৃষ্টিপাত করতে হবে সেই জায়গায়গুলোয়। তাদের কাগজে কলমে কিছু অধিকার রয়েছে বটে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে স্বাস্থ্য, শিক্ষায় এবং কর্মক্ষেত্রে তারা অবহেলিত।

যদিও বা কিছু হিজড়া ছোট ছোট রেস্তোরাঁ কিংবা খাবারের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়াও পত্রিকায় উঠে এসেছিল শাম্মি হিজড়ার বিউটি পার্লারের ব্যবসার কথা।  কিন্তু অধিকাংশ হিজড়াদেরই জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে গণপরিবহনে ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা হাট বাজারে নেচে গেয়ে কিছু অর্থ উপার্জন। কেউ কেউ আবার পেটের তাগিদে অবৈধভাবে লিপ্ত যৌনকাজে। কিন্তু করোনার এ ভয়াল থাবা সবার মতো আঘাত হেনেছে তাদের জীবনেও। শুধু যে তারা এখন স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত তা কিন্তু নয় ভীতসন্ত্রস্ত অন্নের জোগান নিয়েও। সবার মতো তারাও এখন ঘরবন্দি। তারা বাইরে বের হতে না পারা মানে তাদের উপার্জন নেই। আর উপার্জন না থাকা মানে চুলোয় হাঁড়ি না ওঠা। এ অবস্থায় আমদের সমাজের বিত্তবানদের, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এবং সরকারের উচিত হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর।

আকাশ বড়ুয়া

সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..