প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তৃতীয়বারের মতো জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: টানা তৃতীয়বারের মতো জাপানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শিনজো আবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনিই দেশটিতে সর্বাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রোববার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারিভাবে প্রাথমিক ফলাফলে আবের নেতৃত্বাধীন এলডিপি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে।

দ্বিকক্ষ-বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২৯৮ আসনের প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় সময় রাত ১১টা নাগাদ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও তাদের শরিক কুমেতো ২৮০ আসন পেয়েছে। আর বিরোধী শিবির পেয়েছে ১৩৮টি আসন।  খবর জাপানিজ টাইমস।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকে ইতোমধ্যে শিনজো আবেকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ আসনের চেয়ে তার দল বেশি আসন পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সর্বশেষ খবরে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন এলডিপি পেয়েছে ১৮৯ আসন, তাদের শরিক পেয়েছে ২৫, এলডিপি থেকে বের হয়ে টোকিওর প্রথম নারী গভর্নর ইরিকো কইকে নেতৃত্বাধীন কিবো নো তো (আশার দল) পার্টি পেয়েছে ২৯টি আসন, কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) ৩৩টি, কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে সাত?টি আসন।

বিশ্লেষকরা মনে করছে, এলডিপি নিজেই ২৮৯টি আসন পাবে। আর শরিক দলগুলো মিলে ৩২৩ আসন পেতে পারে। ৭৩ বছর বয়সী শিনজো আবে ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো এলডিপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একসময় কোবে স্টিল কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করে আসা শিনজো আবে ২০০৬ সালে কয়েক মাসের জন্য এলডিপির হয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেও একমাত্র ২০১২ সালে প্রথমবারে মতো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দুই বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ‘আবেনোমিকস’ বা ‘আবেতত্ত¡’ দেশটির অর্থনীতিকে আরও বেশি চাঙা করবে বলে ফের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন। এরপর উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত আগ্রাসী, দেশের অর্থনৈতিতে ধস, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট নিয়ে জনগণের জনপ্রিয়তা নি¤œমুখী হয়ে পড়লে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

এবারের নির্বাচনে শিনজো আবে বয়স্কদের জন্য সুরক্ষা ও উত্তর কোরিয়াকে দমন করার প্রত্যয়ে প্রচারণা চালান।

নিশ্চিত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর শিনজো আবে সাংবাদিকদের বলেন, এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানের জনগণের সুরক্ষায় দল কাজ করবে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐক্য গড়তে এলডিপি নেতৃত্ব সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এলডিপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য আবে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগের সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের ন্যূনতম বয়স ২০ বছর থাকলেও এবারই প্রথম জাপান সরকার ভোটারদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করেছে।