প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তৃতীয় প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংকের ইপিএসে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস কমে গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে ৩১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৪৬ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ১৫ পয়সা। আর তিন প্রান্তিক তথা ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল দুই টাকা ৬১ পয়সা। অর্থাৎ এই হিসাবেও ইপিএস কমেছে ৫০ পয়সা।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যে কারণে গতকাল লোকসানে হলেও শেয়ার বিক্রি করে এ প্রতিষ্ঠান থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছেন অনেকে। তাদের অভিমত, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ভালো মুনাফা করলেও শেয়ারহোল্ডারদের নামমাত্র লভ্যাংশ দিয়েছে। ফলে গত বছরের জুজু তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মো. কামরুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘গত বছর ভালো মুনাফা করেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো কিছু পাওয়া যায়নি। আর এ বছর তো প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারের ইপিএস কমে গেছে। শেষ পর্যন্ত যদি এমন হয় তবে কোম্পানি লোকসানের অজুহাতে এবারও শেয়ারহোল্ডারদের নিরাশ করতে পারে। তাই হাতে থাকা শেয়ারগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।’

অন্যদিকে ইপিএস কমলেও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এনএভি কিছুটা বেড়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি হয়েছে ৩১ টাকা ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩০ টাকা ১৭ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকেই শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে ইসলামী ব্যাংক। তবে গত দুই বছরের তুলনায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শেষ হওয়া অর্থবছরে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ দেওয়ার পরিমাণ অর্ধেকে নেমে আসে। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ও চাহিদায় ভাটা পড়ে। পরবর্তী সময়ে দর কিছুটা বাড়লেও ইপিএস কম আসবে এমন খবরে শেয়ারের দর কমতে থাকে। আর গতকাল ইপিএস কমার তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ হলে দ্রুত তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাড়তে থাকে সেল অর্ডার। সে কারণে দিন শেষে শেয়ারের দর এক টাকা ৯০ পয়সা কমে লেনদেন হয় ৩৫ টাকা ৩০ পয়সায়।

১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দিয়েছে গত বছর। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিদায়ী বছরের তুলনায় মুনাফা কমলেও লভ্যাংশ দেওয়ার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৫ ও ২০ শতাংশ। ২০১৫ অর্থবছরের তুলনায় গত বছর শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমেছে।

অভিযোগ রয়েছে ইচ্ছাকৃত ইপিএস কম দেখিয়ে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমিয়ে একটি শ্রেণি ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জড়িত রয়েছে। তারা শেয়ারের দর কমিয়ে নিজেরা কিনতে চান কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কেনার সুযোগ করে দিতে চান। যেমনটি হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ গত বছরও ওই শ্রেণিটির তদবিরেই পর্ষদ লভ্যাংশ কমিয়ে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির একাধিক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিজকে বলেন, গত বছর নতুন পর্ষদ ব্যাংকটির লভ্যাংশ পলিসি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কিছুই বিবেচনায় নেয়নি। এ বছর তেমন হলে শেয়ারহোল্ডারদের নিঃস্ব হওয়া ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, প্রমাণ ছাড়া একটা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। ব্যাংক খাতে এমন হয় বলে জানা নেই। তবে কোনো কারণে যদি হয় এবং প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।

এদিকে বিষয়টি জানতে প্রতিষ্ঠানটির সচিব এবং চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৬১ দশমিক ৬৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে যথাক্রমে পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ ও ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। বাকি ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।