প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তেলক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়িয়েছে ইরাক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ২০১৪ সালে কুর্দিদের দখলে নেওয়া কিরকুক পুনর্দখলে সরকারি বাহিনীর অভিযানে গত সপ্তাহে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন দুই লাখ ব্যারেল তেল বেশি উৎপাদন শুরু করেছে দেশটি। খবর এএফপি।

ইরাকের তেলমন্ত্রী জব্বার আল-লুয়াইবি এক বিবৃতিতে জানান, বারসা অয়েল কোম্পানি শনিবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন দুই লাখ ব্যারেল তেল বেশি উৎপাদন শুরু করেছে। এতে প্রতিদিন কোম্পানিটির তেল রফতানি ২২ লাখ ব্যারেল ছাড়াবে।

তিনি বলেন, যতদিন উত্তরাঞ্চলের উত্তোলন পরিস্থিতি আগের অবস্থানে ফিরে না আসবে, ততদিন দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এতে রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের চুক্তি লঙ্ঘন হবে না।

কিরকুক শহরটি কুর্দিস্তানের মধ্যে অবস্থিত না হলেও কুর্দিরা এ শহরটিকে তাদের প্রাণকেন্দ্র বলে মনে করে। বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও গত ২৫ সেপ্টেম্বর কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করে। কিরকুকেও ওই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কুর্দি বাহিনী থেকে কিরকুকের পুনর্দখল হাতে নিতে এক অভিযান শুরুর পর প্রায় বিনা বাধায় সরকারি বাহিনী শহরে প্রবেশ করে। অভিযান শুরুর একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইরাকি সমরাস্ত্র বহনকারী যানগুলো সরকারি দফতরগুলোর দখল নেয়। আঞ্চলিক সরকার নিয়ন্ত্রিত অফিস-আদালত ও বিমান ঘাঁটির দখলও নিয়েছে সরকারি সেনারা।

গত সোমবার সন্ধ্যায় কুর্দি প্রকৌশলীরা যখন বুঝতে পারলেন তেলক্ষেত্রগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকছে না, তখন তারা উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় কুর্দিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওই অঞ্চলের হাবানা ও বাই হাসান তেলক্ষেত্রের সরঞ্জাম হারিয়ে যাওয়ায় ইরাক আগের মতো তেল উত্তোলন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতি শুরুর আগে কিরকুক প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করত।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক কোম্পানি শেভরন কুর্দিস্তানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কিরকুরে তেলক্ষেত্রে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়। কোম্পানিটি এক মেইল বার্তায় জানায়, আমরা কুর্দিস্তানের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় উৎপাদন কাজ শুরু করব।

এদিকে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) কাছ থেকে কিরকুক দখলে নেওয়ার পর সেখানকার তেলক্ষেত্র পুনর্গঠনে ব্রিটেনের জ্বালানি কোম্পানি বিপিকে প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক। দেশটির তেলমন্ত্রী জব্বার আল লুয়াইবি বিপিকে এক আবেদনে দ্রুত উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের ওই তেলক্ষেত্র পুনর্গঠনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব পরিকল্পনা করতে বলেন।

এদিকে কেআরজির সঙ্গে রাশিয়ার তেল কোম্পানি রসনেফটের সাম্প্রতিক এক চুক্তি বাতিল করতে সরকারের চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রসনেফট কুর্দিস্তানের প্রধান তেল পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ বাড়াতে তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে। ইরাকের সরকার এ চুক্তির বিষয়ে কোম্পানিটিকে সতর্ক করে দিয়েছে।

জব্বার আল-লুয়াইবি জানান, তারা এ চুক্তির বিষয়ে রসনেফনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা চাচ্ছেন। কোম্পানিটি তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, এ চুক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, এখনও বাস্তবায়নযোগ্য হয়নি।