বিশ্ব বাণিজ্য

তেলবহির্ভূত খাতে সৌদি আরবের রাজস্ব বেড়েছে ৮০ শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চলতি বছরের তৃতীয় প্রন্তিকে সৌদি আরবের তেলবহির্ভূত রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৮০ শতাংশ। তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করছে দেশটি। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার চালাচ্ছে সৌদি আরব। এ অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে ‘ভিশন-২০৩০’।

চলমান এ সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে তেলবহির্ভূত খাতে রাজস্ব হয়েছে ৪৭ দশমিক আট বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ১২ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। আর সব মিলিয়ে আয় হয়েছে ১৪২ দশমিক এক বিলিয়ন রিয়াল।

বছরের প্রথম ৯ মাসে সৌদি আরবের রাজস্ব হয়েছে ৪৫০ দশমিক এক বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৩ শতাংশ বেশি।

স্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবের তেলপ্রধান অর্থনীতিকে বহুমুখী সম্পদভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিনোদন শিল্পের উন্নয়নে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। আগস্টে একটি পর্যটন প্রকল্পের যাত্রা শুরু করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় রয়েছে ১০০ মাইল দীর্ঘ বালুকাময় উপকূল এবং ৫০টি দ্বীপের একটি উপহ্রদ। এছাড়া ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাড়ে ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে এই বিশেষ অঞ্চল, যা মিসর ও জর্ডান পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এ অঞ্চলে নয়টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে খাদ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, ম্যানুফ্যাকচারিং, বিনোদন ও পানি।

রক্ষণশীল রাজ্যের আধুনিকায়নে হঠাৎ করেই যেন সংস্কারের দিকে নজর দিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এবার অর্থনীতিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর জন্য হাতে নেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা। হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার মরুভূমিকে নতুন শহরে পরিণত করতে চাইছে দেশটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং শিগগিরই এ দাম খুব একটা বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার পর দেশটিও এখন তেলের বাজারে এসেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তেলের বাজারে যাই হোক না কেন, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে যেতেই হবে। তিনি বলেন, ‘তেলের দামের সঙ্গে অর্থনৈতিক ভিশনের কোনো সম্পর্ক নেই। তেলের দাম বাড়লে আমাদের জন্য ভালো হবে। দাম কমার বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমাদের অর্থনৈতিক ভিশনের মূল লক্ষ্য পরিচালিত হচ্ছে।’

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ২০২০ সালে তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেও সৌদি আরব চলতে পারবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে বর্তমানে সৌদি আরবের মানুষের জীবনযাত্রা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত জীবনের মধ্যে অন্যতম। সমস্যা হচ্ছে মানুষের হাতে অর্থ থাকলেও সেগুলো খরচ করার কোনো জায়গা দেশের ভেতরে নেই। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের উপার্জন সৌদি আরবের চেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও তাদের জীবনযাত্রার মান ভালো, কারণ সেসব দেশে বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা আছে। সেসব দেশের নাগরিকদের উপার্জন কম হলেও তারা সে অর্থ খরচ করতে পারে এবং উপভোগ করতে পারে।

 

সর্বশেষ..