প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তেলের চাহিদা পুনরুদ্ধারে সংশয়

শেয়ার বিজ ডেস্ককভিডের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ায় শঙ্কিত বিশ্ববাসী। ফলে ওমিক্রন ঠেকাতে দেশে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ বিদেশিদের ভ্রমণে নিষেজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধের উপক্রম দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের চাহিদা পুনরুদ্ধার হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ইউরোপে কভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খবর: রয়টার্স।

ওমিক্রনের প্রভাবে এশিয়ার তেল সংরক্ষণকারী কোম্পানিগুলোর সংরক্ষণ গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ স্তরে নেমে গেছে। ইতোমধ্যে ইউরোপে কভিডের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা পুনরুদ্ধারে ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কভিডের নতুন এ ধরন শনাক্ত হওয়ায় তেল খাত আবারও হুমকিতে পড়বে। যেমনটা বিশ্বব্যাপী কভিডে লকডাউনের ফলে ঘটেছিল।

এদিকে, কভিডের এ নতুন ধরন শনাক্তের খবরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের ওপর বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর নিষেধাজ্ঞার হিড়িক পড়ে যায়। ইতোমধ্যে অন্তত ৪৪টি দেশ আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করে। গতকাল এশিয়ার অন্যতম ট্রাভেল হাব জাপান, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর বিদেশিদের ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়।

সম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এশিয়া ও ইউরোপের তেল সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি সংরক্ষণ নি¤œসীমার নিচে নেমে এসেছে। কারণ ইউরোপে কভিড বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সংরক্ষণে ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় বৈশ্বিক আর্থিক পুনরুদ্ধার দ্বিগুণ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং জ্বালানি চাহিদাকে লাইনচ্যুত করেছে। যেখানে আন্তর্জাতিক এনার্জি সংস্থা (আইইএ) আশঙ্কা করছে, দৈনিক ৫.৫ মিলিয়ন ব্যারেল (বিপিডি) হারে জ্বালানি চাহিদা (ঘাটতি) বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০২১ সাল শেষ নাগাদ ৯৬.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওসিবিসি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ হোওয়াই লি বলেন, এ সময় যখন কিছু দেশ ট্রাভেল হাব পুনরায় উš§ুক্ত করছে, তখন এটি বিপত্তি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, কভিডের নতুন ধরনের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নির্ণয় করতে আগামী দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নতুন ধরনের উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দৈনিক ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি হ্রাস। যদিও সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে গতকাল তিন শতংশের বেশি পুনরুদ্ধার করেছে তেলের দাম। 

শুক্রবার তেলের দাম কমায় সিঙ্গাপুরের কমপ্লেক্স মার্জিনসে এশিয়ান রিফাইনারদের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ২.১৫ ডলার, যা গত ৩০ জুন থেকে সর্বনি¤œ মুনাফা। যদিও এক মাস আগেই এ মুনাফা ছিল ৮.৪৫ ডলার; যা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সর্বোচ্চ।

এ বিষয়ে  দক্ষিণ  কোরিয়া প্রধান রিফাইনারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আমরা দেখতে পাচ্ছি কভিডের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ায় গত কয়েকদিন তেল সংরক্ষণ মার্জিন লেভেলে নিচে নেমে এসেছে। তবে কয়েকটি দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জ্বালানি সংরক্ষণ আরও হ্রাস পেতে পারে। তিনি বলেন, তেলের দাম হ্রাস এবং সংরক্ষণাগারের লাভ আরও খারাপ অবস্থায় আসতে পারে। এ অবস্থায় আমরা তেল খাতে দ্বিগুণ ঝুঁকি মনে করছি।

তবে কিছু কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যেহেতু এখনও অনেক দেশ চলাচলের ওপর অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তাই গ্যাসোলিনের দাম দুর্বল হলেও ঝুঁকির আওতামুক্ত থাকবে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন বিশ্লেষক বলেন, জেট ফুয়েলের চাহিদা একেবাইে কমে যাবে, তবে জ্বালানি তেলের চাহিদা চলমান থাকবে। তবে চীনভিত্তিক একজন বিশ্লেষক বলেছেন, ওমিক্রনের প্রভাবে চীন সীমান্ত বন্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা হ্রাস পাবে। দাম কমে যাওয়ায় চীনা শোধনাগাররা উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, এটি বিশ্বের জন্য খারাপ সংবাদ হলেও চীনের জন্য আশীর্বাদ।