প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তেলের ট্যাংকার কিনছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাপানে তৈরি দুই হাজার ৭৩ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি তেলের ট্যাংকার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের কোম্পানি সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটি দুই হাজার ৭৩ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জাপানে তৈরি একটি তেল ট্যাঙ্কার কেনার জন্য মেসার্স এমএ বাশার অ্যান্ড ব্রাদার্সের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই তেল ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে কোম্পানিটি ন্যাফথার গুণগতমান, পরিমাণ, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে ন্যাফথা আনতে বহনবাবদ যে খরচ হয় সেটি অনেকটাই সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ট্যাংকারটির মাধ্যমে অন্যান্য কোম্পানির পণ্য পরিবহন করে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির মাদার ভেসেল বা মূল জাহাজ থেকে স্টোরেজ ট্যাঙ্কে কনডেনসেট পরিবহনেও এ তেল ট্যাঙ্কারটি ব্যবহার করতে পারবে এবং এটি কনডেনসেটের পরিবহন খরচও বাঁচাবে।

এদিকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২১ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ৪৯ পয়সা (লোকসান)। ৩০ জুন, ২০২১ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫৫ পয়সা। এছাড়া এই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৯১ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য গত ২৬ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২১) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৭ পয়সা (লোকসান), যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৮ পয়সা (লোকসান)। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯১ পয়সা। আর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৩১ পয়সা (লোকসান)।

এদিকে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ৭০ শতাংশ বা ১০ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৩৬ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ২৩৬ টাকা ২০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর ২৩১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৪৩ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। দিনজুড়ে কোম্পানিটির আট লাখ ৭১ হাজার ৬২১টি শেয়ার মোট তিন হাজার ৮০৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২০ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ৮২ টাকা থেকে ২৭২ টাকায় ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ৭৭ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৪৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।