বিশ্ব বাণিজ্য

তেলের দরপতন ঠেকাতে বৈঠকে বসছে ওপেক

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে চাহিদা কমেছে জ্বালানি তেলের। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম কমছেই। দরপতন ঠেকাতে জ্বালানি তেলের রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সদস্য দেশগুলো আগামীকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। বৈঠকে ওপেক সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়াসহ অন্য উৎপাদনকারী দেশগুলোও থাকবে। 

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত জানুয়ারিতে তেলের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ দাম কমে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক চীনে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

যদিও লন্ডনের বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম গতকাল মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ৫৩ ডলার ১৭ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এটি বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৪৮ ডলার ১ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় এ দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। কিন্তু করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়িয়েছে এতে দাম ঊর্ধ্বমুখী না থাকার শঙ্কাই বেশি।

গত মাসের মাঝামাঝি করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চীনের অর্থনীতির সংকুচিত হয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের চাহিদাও।

দরপতন ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছে ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরব। দেশটি ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন আরও কমিয়ে বাজারে ভারসাম্য ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরবের এ প্রস্তাব নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করে ওপেক। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলন নতুন করে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ব্যারেল কমানোর প্রস্তাব দেয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। করোনাভাইরাসের কারণে মস্কো নতুন করে জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে আনার পক্ষে নয়। তবে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওপেক কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসের চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরব, রাশিয়াসহ ওপেক-নন ওপেক দেশগুলো। আগামী মার্চে মেয়াদ শেষের পর চুক্তিটি নবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মুহূর্তে রাশিয়ার এমন  প্রত্যাখ্যান চুক্তিটির মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মস্কোর অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরের বৈঠকে এক দফায় দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে সৌদি আরব আরও চার লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর সুপারিশ করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..