বিশ্ব বাণিজ্য বিশ্ব সংবাদ

তেলের দাম ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম এক ডলারেরও বেশি বেড়েছে, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম। বিশ্লেষকদের ধারণা তেলের দাম আরও বেড়ে যাবে। এজন্য তেল সরবরাহ বাড়ানো দরকার। যদিও আগামী এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াতে নারাজ ওপেক এবং এর সহযোগী দেশগুলো। খবর: রয়টার্স।

কভিড মহামারির কারণে তেলের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেল রপ্তানিকারক দেশের সংগঠন ওপেক তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয়।

গতকাল শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দামপ্রতি ব্যারেলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ ডলারে, যা ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে দেখা যায়নি। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার সেশনের শুরুর দিকে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ সেন্ট বা এক দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে ৬৪ ডলার ৭৬ সেন্টে পৌঁছে যাওয়ার পরে পরবর্তীতে তা ৬৪ ডলার ৯৪ সেন্টে পৌঁছেছে।

গত বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশ ও মিত্র সংস্থা ‘ওপেক প্লাস’ নামে একত্র হয়ে রাশিয়া ও কাজাখস্তানে সামান্য ছাড় দিয়ে তেল আউটপুট আটকানো বন্ধ করার পরে উভয় চুক্তি চার শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

‘ওপেক প্লাস’ তেল সরবরাহ অবিচলিত রাখার ইঙ্গিত দিয়ে জানান যে তারা উৎপাদনকে স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি নিতে চায়।

কোটাক সিকিউরিটিজের সহসভাপতি রবীন্দ্র রাও বলেছেন, উৎপাদনের নিরবচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি সারাবিশ্বে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নেতিবাচক হতে পারে এবং যা কি না দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। উদ্বেগগুলো তখনই বাড়বে যদি আমেরিকানদের তেল সরবরাহ উচ্চ দামের প্রক্রিয়াতে বৃদ্ধি পায়।

বিনিয়োগকারীরা অবাক হয়েছিলেন যে, সৌদি আরব গত দুমাস ধরে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরেও এপ্রিলের মধ্যে প্রতিদিন এক মিলিয়ন স্বেচ্ছাসেবীকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

সিটি গ্রুপের পণ্য পর্যালোচনাকারীরা একটি নোটে বলেছেন, দলগুলোকে একত্র করার জন্য একচেটিয়া বিষয় জড়িত হয়েছে, তবে মূল্য বৃদ্ধির ফলে প্রায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিলে আবার এক হওয়ার পরে দলগুলো তাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে চাপ দেবে।

ভারতের তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রয়টার্সকে বছেলেন, ওপেক+ তেল সরবরাহ অবিরত রাখার ফলে তেল কেনা দেশগুলোর গ্রাহকদের ক্ষতি হবে।

আইএনজির প্রধানওয়ারেন প্যাটারসন বলেছেন, যদিও ওপেক+ তেল বাজারের মূলনীতিগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে না, তারা এখনও চাহিদা সম্পর্কে অনিশ্চয়তায় ভুগছে তাই তারা এ বিষয়ে আরা সর্তক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছে বলে মনে হয়। এমন একটি উপাদান রয়েছে যেখানে ওপেক+ বিশ্বাস করে যে মার্কিন তেল উৎপাদন কখনই উচ্চমূল্যের পরিবেশ দিতে সক্ষম হবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওপেক+ পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেল প্রযোজকরা তেল সরবরাহকে প্রতিরোধ করতে তাদের দামের পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেছেন, যারা বিনিয়োগকারীদের আয় বাড়ানোর জন্য ব্যয়কে পেছনে রাখছেন।

গোল্ডম্যান তার ব্রেন্টের মূল্যের পূর্বাভাসে বলেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যারেলপ্রতি পাঁচ থেকে ৭৫ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার  ছাড়িয়ে যাবে। আর ইউবিএস বলছে ব্রেন্টের জন্য তার ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার থেকে ৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..