প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তেলের বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

গত কয়েক মাস ধরেই দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বিদ্যমান। এ অস্থিরতার জন্য আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনেকটা দায়ী। তবে কেবল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেই যে তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা নয়, এ অস্থিরতার জন্য দেশের ব্যবসায়ীরাও অনেকটা দায়ী বলেই নানা ঘটনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে। এমনকি সরকারও ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়টি স্বীকার করেছে। সরকার ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিল বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্বাস ভঙ্গকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘তেলের বাজারে কারসাজির বিষয় স্বীকার করল সরকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিলাম এটাই আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্বাস করা ভুল হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। মিল মালিকরা কথা রাখলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন।’

খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীই স্বীকার করেছেন, ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সব কিছু জেনে বুঝে সরকারের এমন নির্লিপ্ত থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বর্তমানে নিত্যপণ্যের বাজারে অধিকাংশ আইটেমের দামে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা কোনো কারণে একটি পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়াতে থাকেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এখন বাজারে হঠাৎ করে পোঁজের দামও বাড়তে শুরু করেছে। অথচ বাজারে পেঁয়াজের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। এমনকি এবার দেশে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাননি বলে ভরা মৌসুমে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এখন কৃষকের হাতে আর পেঁয়াজ নেই। পেঁয়াজ চলে গেছে আড়তদার, ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাতে। এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরাও সুযোগসন্ধানী হিসেবে বাড়তি মূল্য তুলে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন কি না তা খতিয়ে দেখা একান্ত আবশ্যক। এর আগে ২০১৯ সালে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে প্রায় ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রির রেকর্ড প্রত্যক্ষ করেছিল দেশবাসী। নতুন করে যাতে সে ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা আবশ্যক।

এখন তেলের বাজারে কারা কারসাজি করছেন, তারা নাকি এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এখন এসব অসাধু ব্যবসায়ী যদি চিহ্নিত হয়েই থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।