বিশ্ব বাণিজ্য

তেল আমদানি করবে সবচেয়ে বড় রফতানিকারক সৌদি আরব

শেয়ার বিজ ডেস্ক: তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের তেলের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে রফতানি চালু রাখতে ইরাক থেকে তেল কিনতে যাচ্ছে দেশটি। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। খবর: পার্সটুডে ও রয়টার্স।
গত শনিবার ভোরে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর দুটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। তার মধ্যে আবকাইক তেলক্ষেত্রে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগারটি রয়েছে। এর জেরে সৌদি আরবের দৈনিক তেল উৎপাদন অর্ধেকের বেশি হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ববাজারে এর প্রভাবে তেলের দামও বেড়ে গেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা তেলক্ষেত্রে ওই হামলার দায় স্বীকার করলেও ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইয়েমেন নয়, বরং ইরান থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে।
হামলায় কেউ হতাহত না হলেও তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ কমেছে পাঁচ শতাংশ। এক লাফে বেড়েছে অশোধিত তেলের দাম। এ পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য তেল সরবরাহকারী দেশ হিসাবে সুনাম ধরে রাখতে সৌদি আরব অন্তত তার একটি প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে অশোধিত তেল কেনা এবং বিশ্ববাজার থেকে বাড়তি কিছু তেলজাত পণ্য কেনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, সৌদি আরব তেলজাত পণ্য আমদানি করছে এবং ইরাকের কাছ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিচ্ছে। সৌদি আরব মূলত অপরিশোধিত তেল রফতানি করে, আর মাটি থেকে তোলা কিছু তেল পরিশোধন করে উৎপাদন করা ডিজেল, গ্যাসোলিন ও জ্বালানি তেল অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন জ্বালানি হিসাবে কাজে লাগায়। দেশটি সাধারণত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে না।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানি আরামকো বলেছে, ক্রেতাদের তেল সরবরাহের যে দায়বদ্ধতা তাদের আছে, তা তারা পালন করবে এবং একইসঙ্গে তেলক্ষেত্রে হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও পূরণ করবে।
শনিবার তেলক্ষেত্রে হামলার পরই আরামকো অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বাজার থেকে ডিজেল, গ্যাসোলিন এবং জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। সৌদি আরব এখন রফতানির জন্য অপরিশোধিত তেল হাতে রাখতে চাইলে তারা দেশীয়ভাবে যে পরিমাণ তেল শোধন করে তাও কমানোর প্রয়োজন পড়বে।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠনের (ওপেক) হিসাবমতে, গত বছর সৌদি আরব দিনে গড়ে এক কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে এবং দিনে ৭৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করেছে। এছাড়া দিনে বাড়তি ২০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তেলজাত পণ্যও তারা রফতানি করেছে। কিন্তু গত সোমবারই দেশটি পূর্ণমাত্রায় তেল রফতানি চালু রাখতে তেলজাত পণ্য কেনার জন্য খোঁজখবর শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইতালীয় একটি তেল শোধনাগারের প্রধান নির্বাহী দারিও স্কাফার্দি।
গ্রীষ্মের সময় এয়ারকন্ডিশনের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরব অনেক সময় বাড়তি ডিজেল আমদানি করে। কিন্তু এ সপ্তাহে সৌদি আরবের এ চাহিদা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে বলেই মত ব্যবসায়ীদের।
তাছাড়া সৌদি আরব নিজেদের তেল শোধানাগারে তেল সরবরাহের জন্যই দুই কোটি ব্যারেল তেল পেতে ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির শরণাপন্ন হয়েছেÑএমনটিই জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ..