দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

তেল চিনি রসুন কমলেও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: মাসব্যাপী ভোগ্যপণ্যের বাজারে ব্যাপক দর ওঠানামা করছে। কখনও আদা, রসুন, পেঁয়াজ, আবার কখনও চাল, চিনি ও তেলের দাম বাড়ছে। দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সপ্তাহ ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বাড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে আদা, পেঁয়াজ, চাল ও তেলেও দাম বেড়েছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত রসুনে ৩০ টাকা, আদায় ১৫ টাকা ও তেল চিনির মণপ্রতি (মণ = ৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ১০০ থেকে ১১০ টাকা কমলেও শ্রেণিভেদে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির মণে দাম বেড়েছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা আর তেলের মণ ১০০ টাকা। জানুয়ারি মাসে প্রতি মণ রিফাইন চিনি খাতুনগঞ্জে বিক্রি হয়েছিল দুই হাজার ১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২৪০০ টাকায়। কিন্তু গতকাল  খাতুনগঞ্জ বাজারে দুই হাজার ২৮০-৯০ টাকায় বিক্রয় হতে দেখা যায়। তবে কোম্পানিভেদে বস্তায় ২০ থেকে ৩০ টাকা দামের পার্থক্য রয়েছে। একই সঙ্গে তেলের মণে ১০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। গতকাল খাতুনগঞ্জ বাজারে পাম তেল প্রতি মণ বিক্রয় হয় দুই হাজার ৭৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল দুই হাজার ৮৫০ টাকা। পাশাপাশি সয়াবিন তেল প্রতি মণের বিক্রয় মূল্য ছিল ৩১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০০ টাকা।

তবে খাতুনগঞ্জের চিনির ও তেলের আড়তদারা জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) সিøপ প্রথা চালু রয়েছে। যা যুগ যুগ ধরে এখানে চলছে। বিশেষ করে চিনি ও তেল বেচাকেনায় ডিও’র মাধ্যমে আগাম লেনদেন হয়ে থাকে। এতে পণ্য হাতে না পেলেও ওই সিøপটি বেচাকেনা হয়ে যায়। তাতে কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নিলে যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি, কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলে কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

এদিকে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়, যার ফলে এ কারসাজিতে রমজানে চিনির দাম আকাশচুম্বী হয়। এ সুযোগে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে চাক্তাই পাইকারি বাজারে শ্রেণিভেদে চালের দাম কমলেও পাহাড়তলি পাইকারি বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়Ñসেদ্ধ স্বর্ণচাল চাক্তাই বাজারে ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪৭০-৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাতে ছিল এক হাজার ৫৭০-৮০ টাকা। স্বর্ণা পাইজাম বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ৭৫০ টাকা। বেতি আতফ এক হাজার ৬০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ৭৫০ টাকা আর বেতি সেদ্ধ এক হাজার ৭০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ৩০০ টাকা।

অপরদিকে পাহাড়তী পাইকরি বাজারে জিরাসাইল চাল বিক্রয় হচ্ছে ২৪৫০ টাকা দরে বস্তা, যা গত সপ্তাহে ছিল দুই হাজার৩০০ টাকা। মিনিকেট চাল সেদ্ধ বিক্রয় হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহ আগে ছিল এক হাজার ৬৫০ টাকা আর মিনিকেট আতফ চাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ৭৫০ টাকা।

এ বিষয়ে পাহাড়তলী পাইকারী বাজারের আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চালের দাম কয়েক সপ্তাহ দরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে চিকন চালের দাম বেশি বাড়ছে। দ্রুত দাম কমবে বলে মনে হয় না। কারণ উত্তরবঙ্গের মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বৃদ্ধি করে। তাছাড়া সরকার চাল রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ায় তারা চালেন দাম বৃদ্ধি করে। তবে এরমধ্যে সরকার চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এখন দেখার বিষয় মিল মালিকরা কি সিদ্ধান্ত নেয়’। এদিকে খাতুনগঞ্জ বাজারে রসুন কেজিতে ৩০ টাকা কমে ১৬৫-৭০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। আর আদা বিক্রয় হচ্ছে ১০৫-৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..