আজকের পত্রিকা বিশ্বসাথে সর্বশেষ সংবাদ

তেল সংকটে বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি জিবিকা ঝুঁকিতে

আইইএ প্রধানের আশঙ্কা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী কমেছে তেলের চাহিদা। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে মূল্যযুদ্ধে পণ্যটির দরে বড় পতন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি চাকরি ও জিবিকা ঝঁকিতে আছে বলে আশঙ্কা করেছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।

আরব নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিরল বলেছেন, তেল শিল্প সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। এর বড় প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি, আর্থিক বাজার এমনকি কর্মসংস্থানে।

তিনি বলেন, তেল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারাতে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমারা হিসাব করে দেখেছি পরিশোধন খাত ও প্যাট্রোল স্টেশনে প্রায় ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান। এদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য নিয়ে এ খাতে মোট জিবিকা হয় ২৫ কোটি মানুষের। এ সংকট অব্যাহত থাকলে এদের অনেকেই চাকরি হারাবে।

কভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে বিশ্বব্যাপী গত কয়েক সপ্তাহে তেলের চাহিদা কমেছে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল। স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশেরও বেশি কমল চাহিদা। এতে পণ্যটির দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হচ্ছে ২৫ ডলারে। অপরদিকে লন্ডনের ব্রেন্ট তেলের দাম কমেছে ১২ শতাংশ। এ বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হচ্ছে ৩০ ডলারে।

গত এক মাস ধরেই তেলের দাম নিয়ে দমূল্যযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব ও রাশিয়া। করোনাভাইরাসের কারনে বিশ্বের একটা বড় অংশ লকডাউনে রয়েছে। বেশির ভাগ দেশই উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় অপরিশোধিত তেলের জোগান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ফলে তেলের দাম হু হু করে কমেছে বিশ্ববাজারে।

সম্প্রতি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৫৮ ডলার। যা ছিল ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দাম। তবে উৎপাদন কমাতে একটা চুক্তিতে যাচ্ছে সৌদি আরব ও রাশিয়া এমন খবরে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ২০ শতাংশ পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ে। প্রতি ব্যারেল ২৬ ডলার হয়। ওই চুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ার খবরে আবার কমেছে দাম।

তেলের দাম বাড়াতে পণ্যটির উত্তোলন কামতে চেয়েছিল জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও ওপেক বহির্ভূত অন্য প্রধান দেশগুলো। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি ওপেকের বাইরে সবচেয়ে বড় উত্তোলক দেশ রাশিয়া। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৌদি আরব তেলের উত্তোলন আরও বারিয়ে দেয়। শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে মূল্যযুদ্ধ। এতে হু হু করে বাড়তে থাকে তেলের উৎপাদন। কিন্তু চাহিদা কমে যাওযায় অতিরিক্ত এ উত্তোলন পণ্যটির দামে বড় পতন ঘটায়।

এমন পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও গত সপ্তাহের সে আলোচনা হয়নি। এতে পণ্যটির দাম আরও একধাপ কমেছে। তবে বিরল জানিয়েছে জি-টুয়েন্টিভুক্ত শীর্ষ দেশগুলো এ সমস্যা সমাধানে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে। এতে সৌদি আরব নেতৃত্বধীন দেশগুলো দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হ্রাসের প্রস্তাব দিতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এ বৈঠক হতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..