বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

তৈরি পোশাকশিল্প পণ্যের চার প্রদর্শনী উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী তৈরি পোশাকশিল্প পণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। দুপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এসব প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।

পোশাকশিল্পের মেশিনারি ও এর সহায়ক পণ্যের ১৯তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘গার্মেন্টেক বাংলাদেশ, ২০২০’; ১১তম ‘ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক সোর্সিং ফেয়ার’; ১১তম ‘গ্যাপ এক্সপো, ২০২০’ এবং ‘প্যাকটেক বাংলাদেশ, ২০২০’ শীর্ষক এ চার প্রদর্শনী চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আসক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাাদেশ গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) যৌথভাবে প্রদর্শনীগুলোর আয়োজন করে। বসুন্ধরার ১০টি হলে প্রদর্শনীগুলোতে ২৪টি দেশের ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। এখানে ৪৫ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। রপ্তানি পণ্যের ৮৪ শতাংশ এ খাত থেকেই আসে। এ খাতে বর্তমানে যে সংকট চলছে, সেটা সাময়িক, যা সম্মিলিতভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধররনের সহায়তা দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহারের জন্য কার্টন, প্লাস্টিকসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু বিদেশ থেকে আমদানি করে পোশাক রপ্তানি করতে হতো। আজ বাংলাদেশে এ সেক্টর নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন গার্মেন্ট এক্সেসরিজ বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে পূর্বাচলে নিজস্ব স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে এবং আগামী বছর থেকে পূর্বাচলে সুন্দর পরিসরে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করা যাবে।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, আমাদের গার্মেন্ট খাত যেভাবে এগিয়েছে, এক্সেসরিজ খাতও সেভাবে এগিয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য রিসাইক্লিং শিল্পের দিকে যেতে হবে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ খাততে এগিয়ে নিতে সবাই একসঙ্গে সুপারিশ করলে ফল ভালো পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যান্যুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুল কাদের খান, উপদেষ্টা মো. রাফেজ আলম চৌধুরী, আসক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল কে, জাকারিয়া ট্রেড আ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী টিপু সুলতান ভূঁইয়া প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, জাপান, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, কানাডা, স্পেন, ফ্রান্স ও হংকংয়ের মোট ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন, নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, দক্ষতা, পণ্যের মান, বৈচত্র্য ও মোড়কজাতকরণ প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা প্রযুক্তি উপস্থাপন করবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..