প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ত্রাণসামগ্রীতে আলু অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব

 

জাকারিয়া পলাশ: সম্প্রতি দেশে চালের ঘাটতি থাকলেও বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত রয়েছে। বাংলাদেশ হিমাগার সমিতির (বিসিএসএ) তথ্য মতে, বেসরকারি পর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ৫৩ লাখ টন আলু হিমায়িত রয়েছে। আলুর বিপুল মজুদ থাকলেও চাহিদা কম দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থা চললে বছর শেষে প্রায় ২০ লাখ টন আলু বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ব্যবসার জন্য বড় ঝুঁকি। এজন্য বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে চালের পাশাপাশি আলু বিতরণের পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে যৌক্তিক কারণে এ প্রস্তাব এখনই আমলে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে নাÑবলে মনে করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কারণ চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। এতে যেসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তার মধ্যে শুকনা খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে আলু দিতে গেলে প্যাকেটের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। তাই এখনই ত্রাণের প্যাকেটে আলু দেওয়ার বিষয়টি ভাবছে না মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ত্রাণ) মো. জাকির হোসেন আকন্দ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা হিমাগারের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। এ প্রস্তাবটিকে আমরা অযৌক্তিক মনে করছি না। পরে এ প্রস্তাব আমলে নেওয়ার বিষয়ে ভাবা হতে পারে। তবে এখন ত্রাণ হিসেবে যে ফুড বাক্সটি তৈরি করা হচ্ছে তাতে আলু দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এতে প্যাকেটের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। এখন চিড়া, গুড়, তিন কেজি করে চাল, তেল, ডাল ইত্যাদি দেওয়া হচ্ছে ত্রাণের প্যাকেটে। ত্রাণের প্যাকেটের ওজন বেশি হলে তা ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হচ্ছে। এছাড়া চালের চেয়েও আলুর খাদ্যমান কম।’

সূত্রমতে, বিসিএসএ’র সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন পুস্তি তার সমিতির পক্ষে ওই প্রস্তাব দেন গত ১০ জুলাই। কৃষিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী এবং মুখ্য সচিবের দফতরে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, চলতি ২০১৭ অর্থবছরে দেশে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল। এ বছরে প্রায় এক কোটি টন আলু উৎপাদন হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৫৩ লাখ টন আলু এখন দেশের ৩৯০টি বেসরকারি মালিকানাধীন হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয় বাজারে ইদানীং আলুর বাজারজাতের পরিমাণও কম দেখা যাচ্ছে। বিদেশেও আলু রফতানি কমে গেছে এ বছর। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন আলু মজুদ থেকে যেতে পারে, যা কৃষিভিত্তিক এ খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এ কারণে সংগঠনটি আলু রফতানির জন্য সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে আলুর ভোগ বাড়াতে কিছু উদ্যোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ত্রাণসামগ্রী, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি, ভিজিএফ-ভিজিডির আওতায় সরবরাহকৃত খাদ্যপণ্যের মধ্যে চালের সঙ্গে আলু যুক্ত করা আবশ্যক বলে বিসিএসএ মনে করে। এ উদ্যোগের মধ্যমে উদ্বৃত্ত আলু সময়মতো হিমাগার থেকে খালাস করা সম্ভব না হলে হিমাগার মালিকদের ব্যাংকঋণ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং এটা আগামী বছর আলুর উৎপাদনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।