খবর দিনের খবর

ত্রাণ-স্বাস্থ্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘আরও কঠোর হবে’ দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাজের গতি কমে গেলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্য খাতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও ‘কঠোর’ হবেন বলে জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গত বৃহস্পতিবার কমিশনের এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা এবং ২০১৯ সালের বাস্তবায়ন প্রতিবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিশনের এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘করোনার কারণে কমিশনের নিয়মিত অভিযান স্থগিত রাখা হলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্য খাতে চিহ্নিত দুর্নীতি পরায়ণদের বিরুদ্ধে আইনি অভিযান আরও সক্রিয় করা হবে। জনগণের কল্যাণেই এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

সভায় জানানো হয়, এ মহামারির মধ্যেও দুদকের কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত ১৮ জন কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, দুজনের মৃত্যুও হয়েছে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এর মধ্যেও আপনারা মামলা করছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের তলব করছেন, জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। দুর্নীতির অভিযাগের অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রসিকিউশন, প্রতিরোধসহ সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা আপনাদের কৃতিত্ব।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রয়োজনে বাসায় বসে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই নথির মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার অনুসরণ করতে হবে এবং তা কমিশনের সচিবকে অবহিত করতে হবে।’

কমিশনের মানি লন্ডারিং অণুবিভাগের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালে কমিশনের ১১টি মানি লন্ডারিং মামলার ১১টিতেই অপরাধীদের সাজা হয়েছে। ২০১৮ সালেও শতভাগ মামলায় সাজা হয়েছিল।

বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘পাচারকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা করে সংশ্লিষ্ট সম্পদ উদ্ধারের পদক্ষেপ নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে বিএফআইইউ, সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অন্যান্য সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে। কীভাবে এসব সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করা যায়, তা কমিশনের কৌশলপত্রের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এসব কর্মকর্তা স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একটি দুর্নীতির খবরও কমিশনকে জানাননি। তাদেরও জবাদিহিতার দরকার।’

সৎ, স্বচ্ছ ও দৃঢ়চেতা কর্মকর্তাদের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘কমিশনের যে সব সততা সংঘ রয়েছে সেগুলোর কার্যক্রমও দৃশ্যমান করতে হবে। শুধু কমিটি করলে চলবে না।’

আরেক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালসহ এ জাতীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে দুদকের গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসছে, এসব প্রতিষ্ঠান কাক্সিক্ষত মাত্রায় পরিষেবা দিচ্ছে না। মহামারি শুরু হওয়ার আগে যেভাবে অভিযান পরিচালনা করা হতো, প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেভাবে অভিযান শুরু করা দরকার।’

অন্যদের মধ্যে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার, মহাপরিচালকদের মধ্যে আ ন ম আল ফিরোজ, মো. মফিজুর রহমান ভূঞা, মো. জহির রায়হান, মো. রেজানুর রহমান, সাঈদ মাহবুব খান, মো. জাকির হোসেন ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য দেন। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে কমিশনের আইসিটি ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম সোহেল সভা পরিচালনা করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..