প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত : পৃথক ক্লিয়ারিং কোম্পানি গঠনে কমিটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট চালুর পাশাপাশি দ্রুত লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠনে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশের (সিডিবিএল) সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল ডিএসইতে সংগঠন তিনটির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক বিধিমালার আলোকে সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি (সিসিপি) গঠনে ‘সিসিপি ফরমেশন কমিটি’ গঠন করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন ডিএসইর দুজন, সিএসই, সিডিবিএল এবং ব্যাংকগুলোর একজন করে প্রতিনিধি। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমকে। আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান।

কমিটি দ্রুত সময়ে বিধিমালার আলোকে বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলে শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড লেনদেনের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট যেমন ডেরিভেটিভস, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন একদিনেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আলাদা ক্লিয়ারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলে বর্তমানের মতো তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক লভ্যাংশ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের আগে স্পট ট্রেড বলে কিছু থাকবে না। রেকর্ড ডেটের দিন লেনদেন বন্ধ রাখারও প্রয়োজন পড়বে না।

বর্তমানে ক্লিয়ারিংয়ের কাজ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ‘পৃথক ক্লিয়ারিং বিভাগ’ ও ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করছে। বিএসইসি মনে করছে, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট ও বন্ডের পাশাপাশি কমোডিটি মার্কেট এবং ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করলে স্বতন্ত্রভাবে ক্লিয়ারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আর বর্তমানে যেভাবে ক্লিয়ারিং সম্পন্ন হচ্ছে, তখন সেভাবে করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সম্প্রতি ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন ও পরিচালনার জন্য চূড়ান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটলমেন্ট কোম্পানিটির ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার থাকবে ৬৫ শতাংশ। তবে একটি স্টক এক্সচেঞ্জ এককভাবে সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল) ১০ শতাংশ, কৌশলগত বিনিয়োগকারীরা নেবেন ১০ শতাংশ। তবে কৌশলগত বিনিয়োগকারী না পাওয়া পর্যন্ত এ শেয়ারগুলো সিডিবিএলের কাছে থাকবে। কৌশলগত বিনিয়োগকারী পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসভ্যালুতে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর শেয়ারগুলো হস্তান্তর করবে সিডিবিএল। আর সব ব্যাংক মিলে বাকি ১০ শেয়ারের মালিক হবে। তবে একটি ব্যাংক এককভাবে সর্বোচ্চ দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে এ কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকবে ১১ জন। এদের মধ্যে ছয় জন থাকবে স্বতন্ত্র পরিচালক। বাকি পরিচালকদের মধ্যে প্রতি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে থাকবে একজন করে সদস্য। বাকি শেয়ারের মালিকদের মধ্য থেকে দুজন পরিচালক মনোনীত করা হবে।  কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকার বলে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠনের বিষয়ে গতকালের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম। বৈঠকের শুরুতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান নতুন কোম্পানির গঠন ও শেয়ার ধারণের কাঠামো, পরিচালনা পর্ষদ, অনুমোদিত মূলধন এবং কোম্পানির নিবন্ধিত কার্যালয়সহ আরও অন্যান্য বিষয় উপস্থাপন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, মো. হানিফ ভূইয়া, সিএসইর চেয়ারম্যান ড. একে আবদুল মোমেন, সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার এবং সিডিবিএলের ভাইস চেয়ারম্যান একেএম নূরুল ফজল বুলবুল।