বিশ্ব সংবাদ

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সরকার ও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে থাইল্যান্ডে চলা বিক্ষোভ দমনে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঠেকাতে এক সপ্তাহ আগে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় তা প্রত্যাহার করে থাই সরকার। ওই ডিক্রিতে জারি করা নিষেধাজ্ঞা দেশটির বাসিন্দাদের ক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছিল; রাজধানী ব্যাংককের সড়কগুলোয় টেনে এনেছিল লাখ লাখ মানুষকে। খবর: রয়টার্স, বিবিসি।

রাজনৈতিক সমাবেশে পাঁচজন বা তার বেশি জমায়েত এবং নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন খবর প্রকাশে নিষেধাজ্ঞাসহ যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজকীয় গেজেটে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে রাত ১২টা থেকে সেগুলোর ইতি টানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মারাত্মক পরিস্থিতির ঘোষণা যে কারণে দেওয়া হয়েছিল, তা খানিকটা হ্রাস পেয়েছে এবং এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো নিয়মিত আইনগুলো কার্যকর করতে পারবে।’

গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারির পেছনে রানি সুথিদার গাড়িবহর বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়ার ঘটনাটিকে উল্লেখ করা হলেও মূলত কয়েক বছরের মধ্যে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন ও প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা’র জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বিক্ষোভ দমাতেই এটি দেওয়া হয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

বিক্ষোভকারীরা প্রায়ুথকে তিন দিনের মধ্যে পদত্যাগের সময় বেঁধে দিয়েছে। বিক্ষোভ ও সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ‘যথেষ্ট নয়’ বলেও জানিয়েছে তারা।

‘জনগণের দাবি উপেক্ষা করে তিনি (প্রায়ুথ) এখনও ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জরুরি ডিক্রি জারি করা তো উচিতই হয়নি,’ বলেছেন বিক্ষোভকারীদের অন্যতম নেতা সিরাউইথ সেরিতিওয়াত।

থাইল্যান্ডের সরকার বিক্ষোভ দমনের চেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি কয়েক ডজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া সুপরিচিত কয়েকজনও ছিলেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা পাতসারাভালি মাইন্ড থানাকিতভিবুলপনকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

২৫ বছর বয়সি এ তরুণী জানান, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালত সেগুলোকে গুরুতর মনে করেননি। এছাড়া তার ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও জরুরি ছিল, যে কারণে সহজেই জামিন মিলেছে তার।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ২০১৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রায়ুথ ক্ষমতা ধরে রাখতে গত বছরের নির্বাচনে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। থাই প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

থাইল্যান্ডে বছরের পর বছর ধরে সেনা আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য রাজতন্ত্রকে দায়ী করে বিক্ষোভকারীরা রাজার ক্ষমতা খর্ব করারও দাবি তুলেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..