প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

থামছে না দুর্বল ও জেড ক্যাটাগরির দাপট

 

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দর বৃদ্ধির দাপট যেন থামছে না দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর। মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করছে এসব কোম্পানির শেয়ার। কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই রাতারাতি মুনাফা ঘরে তুলতে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন এক শ্রেণির অতিলোভী বিনিয়োগকারী। তবে এসব বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ ভালো না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গতকাল রোববারও নামসর্বস্ব কোম্পানিগুলো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। দিন শেষে মৌলভিত্তির বদলে দর বৃদ্ধির শীর্ষ অবস্থানে ছয়টিই ছিল ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- দুলামিয়া কটন, ঢাকা ডায়িং, ইমাম বাটন, মেট্রো স্পিনিং, রহিমা ফুড ও বিচ হ্যাচারি।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কারসাজির সুযোগ নিচ্ছে একটি চক্র। এ চক্রটি দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিকে ঘিরে সহজেই বিনিয়োগকারীদের ঠকাচ্ছেন। টানা দরবৃদ্ধি দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাদের কেউ হয়তো মুনাফা করছেন, আবার কেউ হয়তো লোকসান করছেন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোকসানেই বেশি পড়ছেন। ২০১০ সালের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, সেই সময় যারা ‘জেড’ ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয় করেছিল, পরে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মাথায় রাখা দরকার।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সবসময়ই কিছু লোক সুবিধা নিতে চায়। এরা এমনভাবে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলেন যে তারা বিষয়টি বুঝতেই পারেন না। যে কারণে তারা অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ করতে ভাবেন না। ফলে বেশিরভাগ সময়ই তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, বাজারে যখন তারল্য প্রবাহ বাড়তে থাকে। তখন ভালো-মন্দ সব কোম্পানিতেই বিনিয়োগ আসে। যেসব কোম্পানির শেয়ার অবমূল্যায়িত বা কম দামে রয়েছে ওইসব কোম্পানির দর বাড়ে। সেক্ষেত্রে অনেকেই বাছ-বিচার করে না। তাই তারল্য প্রবাহ না বাড়ালে শেয়ার অতিমূল্যায়িত হবেই। জেড ক্যাটাগরির প্রতি আগ্রহ থাকবেই। সে কারণে নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।

গতকাল দর বৃদ্ধির তালিকার প্রথমদিকে ছিল বস্ত্র খাতের দুলামিয়া কটনের নাম। কোনো কারণ ছাড়াই এ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে এক টাকা বা ৯.৭১ শতাংশ। গতকাল প্রায় সারা দিনই এ কোম্পানির শেয়ারের বিক্রেতা শূন্য ছিল। কোম্পানিটি গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করতে পারেনি। বর্তমানে এটির উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে।

একই অবস্থা ঢাকা ডায়িং নামের বস্ত্র খাতের কোম্পানিটির বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ প্রদান না করায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়। আর তখন থেকেই এ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়ে। পরে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। গতকাল দিন শেষে এ কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় মোট ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

এরপরই রয়েছে বস্ত্র খাতের মেট্রো স্পিনিং নামের কোম্পানিটি। সারাদিনে কোম্পানিটির মোট চার লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ২০১৬ সালে কোনো লভ্যাংশ না ঘোষণা করায় কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দিতে না পারা ইমাম বাটনও শীর্ষে উঠে এসেছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের রহিমা ফুড নামের কোম্পানিটির মোট ৪১ হাজার ৭০৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সম্প্রতি একটি গ্রুফ এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয় করার পর থেকে এর দর বাড়তে থাকে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।