প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে যা জরুরি

গতকালের পর

চিকিৎসা কী: সাধারণত রক্তস্বল্পতার জন্য একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীকে প্রতি মাসে ১ থেকে ২ ব্যাগ রক্ত শরীরে নিতে হয়। ঘন ঘন রক্ত নেয়ায় ও পরিপাকনালি থেকে আয়রনের শোষণক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় শরীরে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে লিভার, হৃৎপিণ্ডসহ নানা অঙ্গ ও গ্রন্থিতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত রক্ত না নিলে থ্যালাসেমিয়া রোগী মারা যেতে পারে। তাই রক্তদানের যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তারও সুচিকিৎসা প্রয়োজন। আয়রন যাতে বেশি জমে না যায়, তার জন্য ‘আয়রন চিলেশন’ করা দরকার হয়। প্রতিবার রক্ত নেয়া, আয়রন কমানোর ওষুধসহ অন্যান্য খরচে একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

নিয়মিত রক্ত দিয়ে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত¡াবধানে সঠিকভাবে চিকিৎসা করালে থ্যালাসেমিয়া রোগীকে দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু এর চেয়ে অধিক কার্যকর ও সঠিক চিকিৎসা হলো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট। নানা কারণে সবার পক্ষে এই চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয় না।

কীভাবে জানা যাবে: হেমাটোলজি অটো অ্যানালাইজার মেশিনে রক্তের সিবিসি পরীক্ষায় থ্যালাসেমিয়া বাহকের ধারণা পাওয়া যায়। এরপর হিমোগেøাবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ক্ষেত্রবিশেষ ডিএনএ অ্যানালাইসিস পরীক্ষা করা লাগে।

পরামর্শ: থ্যালাসেমিয়ার বাহক আর থ্যালাসেমিয়া রোগীর খাবার এক নয়। থ্যালাসেমিয়ার বাহকের খাবার স্বাভাবিক মানুষের মতো হলে ক্ষতি নেই। আয়রন-জাতীয় খাবারে কোনো নিষেধ নেই, বরং আয়রনের ঘাটতি হলে বেশি বেশি আয়রন-জাতীয় খাবার খেতে দিতে হয়। তবে থ্যালাসেমিয়া রোগীর আয়রন-জাতীয় খাবার কম খেতে হয় এবং প্রয়োজনে শরীর থেকে আয়রন কমানোর ওষুধ দিতে হয়, যা ব্যয়বহুল। তবে কোনো কারণে আয়রনের ঘাটতি থাকলে অবশ্যই আয়রন-জাতীয় খাদ্য ও ওষুধ দিতে হবে। সেটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। [বাকি অংশ আগামীকাল]

ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

সহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা