মত-বিশ্লেষণ

দক্ষতামূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে

জবাবদিহি বাড়াতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং উন্নততর পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ডেটার ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। জরুরি বা সাধারণ, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সেকেন্ড চান্স লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা দিতে হবে।

দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই সময় লেখাপড়ায় যে বিঘœ ঘটে, তা পুষিয়ে দিতে জরুরি পরিস্থিতিতে লেখাপড়ার একটি রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতার অনুশীলন শিক্ষার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা বের করতে গবেষণা চালাবে ইউনিসেফ। মাঝপথে হারিয়ে যাওয়া নয়, সফলতার জন্য তৈরি করতে হবে শিশু-কিশোরদের। তাদের দক্ষতামূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নাজুক পরিস্থিতিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়Ñক. বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও যারা কখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি; খ. বিদ্যালয়ে গেছে, কিন্তু ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং গ. লেখাপড়া শেষ করলেও চাকরির জন্য দক্ষতা তৈরি না হওয়া।

বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীর আনুপাতিক হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনি¤œ। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হওয়া ৯৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র ৪৬ শতাংশ মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়া করে। মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রকৃত হার ৫০ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এই বয়সি ছেলেমেয়েদের ৭৫ শতাংশই মাধ্যমিক শেষ করার আগে ঝরে পড়ে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার ছেলেদের দ্বিগুণ।

অষ্টম শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার সর্বোচ্চ। এই পর্যায়ে ১৪ দশমিক ছয় শতাংশ ছেলেমেয়ে স্কুল ত্যাগ করে।

মাধ্যমিক শিক্ষায় অনেক পশ্চাৎপদতা রয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া বন্ধ করতে হলে মানসম্মত পাঠ্যক্রম, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা উন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কিশোর-কিশোরীদের লেখাপড়া ছাড়ার আরও একটি কারণ স্কুলের দূরত্ব। এর কারণে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী অনেক ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..