সম্পাদকীয়

দক্ষতা বাড়ুক বৈদেশিক সহায়তা আদায়ে

দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় এখনও ভূমিকা রেখে চলেছে বৈদেশিক সহায়তা। সেটা ঋণই হোক আর অনুদান। উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে প্রতিবছরই পাওয়া যায় নতুন নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সে অনুপাতে দেশে আসছে না অর্থ। দৈনিক শেয়ার বিজে গতকালের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দুই মাস আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় ৩৪ প্রকল্পে ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন (দুই হাজার ৪৪৫ কোটি) ডলার ঋণ চাওয়া হয় চীনের কাছে। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো অর্থই পায়নি বাংলাদেশ। তবে তিন প্রকল্পে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন (১১৭ কোটি) ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে দেশটি। এ অর্থও কবে নাগাদ দেশে আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কেবল চীন নয়, অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর ক্ষেত্রেও কমবেশি একই পরিস্থিতি। বিশাল অঙ্কের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাস্তবতা ভিন্ন।

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে কূটনৈতিক দক্ষতার ওপর। বিষয়টিকে অর্থনৈতিক কূটনীতি বললেও অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু শুরু থেকেই এক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এছাড়া যেসব প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হয়, সেগুলোর প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতাও বিদেশি সহায়তা দেশে এসে পৌঁছতে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে অনেক সময় লেগে যায়। এছাড়া ঋণদানকারী সংস্থাগুলো অর্থ ছাড়ে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে উভয় পক্ষের জন্য ‘উইন-উইন’ অবস্থানে আসতেও সময় লাগে। এ ধরনের পরিবেশ তৈরিতেও প্রয়োজন কূটনৈতিক দক্ষতা। আবার বিদেশিদের কাছে বড় ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এগুলোর বিষয়ে তেমন পূর্বপ্রস্তুতি থাকে না। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোয়ও এ বিষয়ে তেমন আলোচনা হয় না। ফলে বড় অঙ্কের ঋণের প্রস্তাব নিয়ে গুঞ্জন হলেও প্রকৃতপক্ষে সেখান থেকে কার্যকর ফল পাওয়া যায় না।

চীনের কাছ থেকে ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন সহায়তার প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। ৩৪টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হলেও তিন প্রকল্পে সরাসরি ঋণ প্রদানে চুক্তি সই করেছে দেশটি। এর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ডলার ঋণ দেবে চীন।। ছয়টি জাহাজ কেনায় ১৮ কোটি ৪৫ লাখ ও দাশেরকান্দিতে পয়োশোধনাগার নির্মাণে ২৮ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া যাবে। কিন্তু চুক্তি হলেও তিন প্রকল্পের ঋণ কার্যকরের কোনো চিঠি এখনও পায়নি বাংলাদেশ। ফলে ঋণের অর্থ কবে নাগাদ আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই। এতে আটকে আছে প্রকল্পগুলোর কাজ। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাড়বে। সময় বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়ে যাবে বাস্তবায়ন ব্যয়ও, যার দায় চূড়ান্তভাবে বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। কোনো প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির দায় উন্নয়ন সহযোগীদের বহন করার নজির নেই। কাজেই একটি প্রকল্প প্রণয়নের পর যত দ্রুত সময়ে সেটি বাস্তবায়ন করা যাবে, ততই অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে। তাই বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সময়মতো অর্থ ছাড় করানোর উদ্যোগ জরুরি। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অর্থনৈতিক কূটনীতির দক্ষতায় উন্নয়ন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সর্বশেষ..