বিশ্ব সংবাদ

দক্ষিণ ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবদাহ চলছে। গ্রিসে ভয়াবহ দাবানলে দেড় শতাধিক বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দেশটিতে বুধবারও ৪৭ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১৭ ফারেনহাইট) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ তাপামাত্রার রেকর্ড। রাজধানী এথেন্সের উত্তরাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার বাসিন্দা ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দমকলকর্মীরা। খবর: গার্ডিয়ান , সিএনএন।

এদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ইতালি, রোমানিয়া, সার্বিয়া ও তুরস্ক সতর্কতা জারি করেছেন। চলতি সপ্তাহেই তুরস্কেও  বড় পর্যটন এলাকা দাবানলের আগুনে পুড়ে যায় এবং অন্তত আটজন নিহত হয়। 

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের দক্ষিণাঞ্চলে বুধবার দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার এথেন্সের উত্তরাঞ্চলেও দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রিসে ৭৮টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দমকল বাহিনী।

গত সপ্তাহে স্পেনে দাবালন শুরু হয়। এর আগে জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদালল্যান্ডসে বন্যায় দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। গত মাসের শুরুর দিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে আট শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

বুধবার গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এথেন্সের উপশহর ভারিম্পম্পি এবং তাতোইয়ের আগুন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেখানে পাঁচ শতাধিক দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তাদের সহায়তা করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং ৯টি হেলিকপ্টার ও পাঁচটি বিমান।

সিভিল প্রোটেকশন প্রধান নিকোস হার্ডালিয়াস বুধবার ওই এলাকায় একটি ফায়ার বিভাগের ভ্রাম্যমাণ সমন্বয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বলেন, এটি ছিল আরও একটি কঠিন রাত। তিনি বলেন, বাতাস ও আর্দ্রতা কম থাকায় দমকলকর্মীরা এক রাতের মধ্যে চারটি সক্রিয় দাবানল নেভাতে সক্ষম হয়েছে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনও অনেক কাজ করতে হবে।

দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮১টি দাবানলের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলটি এখনও সক্রিয়।

মঙ্গলবার গ্রিসের রাজধানীর কাছাকাছি পারনিথা পর্বতের পাদদেশে পাইন গাছের একাটি বিশাল বনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চ দহনযোগ্য এ বনে আগুন লাগায় তা আশপাশের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কিছু দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন পুড়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে কোনো মানুষের মৃত্যু না হওয়ায় সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের আগুনকে ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বাস্তুচ্যুত লোকজন আবাসস্থলে ফিরতে না পারা পর্যন্ত সরকার তাদের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করবে। ভয়াবহ এ দাবানলে তিন হাজার হেক্টর পাইন ও অলিভ বন পুড়ে গেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..