বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ঐক্য চায় এফবিসিসিআই

এফআইসিসিআই লিডস ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। চার দিনব্যাপী বিশ্ব চিন্তা নেতৃত্ব উদ্যোগ লিডস ২০২০-এ অংশ নিয়ে এফবিসিসিআই নেতারা এ প্রস্তাব দেন। ‘সাউথ এশিয়া সেশন রিইমাজিনিং নেইবারহুড ইকোনমিক ইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশ্বায়নের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে ভাবার লক্ষ্যে বিশ্ব নেতাদের পরিকল্পনা জানতে সম্প্রতি এ অনলাইন সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম; ভারত সরকারের বস্ত্র, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি; এফআইসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ডা. সংগীতা রেড্ডি; বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর জুনায়েদ আহমদ; রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর; এফএনসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ভবানী রানা; ফেডারেশন অব আফগান চেম্বারসের চেয়ারম্যান ইসমাইল গাজানফার; শ্রীলঙ্কার জ্যাট হোল্ডিংসের সিইও নিশাল ফারদিনান্দো; টাইমস অব ইন্ডিয়ার কূটনীতিক সম্পাদক ইন্দ্রানি বাগচি; এফআইসিসিআইয়ের এসজি দিলীপ চনয় এবং এফআইসিসিআইয়ের সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মাল্টিল্যাটেরালস-ডিরেক্টর সুষমা নায়ার সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করতে পারেÑএমন সব বাধা কাটিয়ে ২০০৮ সাল থেকে আমরা সংস্কৃতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিসরে সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতার জন্য অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। ধারাবাহিক টেকসই উন্নয়নে আমাদের নেতারা নিজেদের ভাবনা বিনিময় করেছে, যা আমাদের বর্তমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। আমরা এও দেখেছি, কভিড-১৯-এর সময় আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে এর বাইরেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে একত্র হয়েছেন।’

সাফটা ভ্যালু চেইন সর্বাধিকীকরণের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, সার্ক অর্থনৈতিক অঞ্চল বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অন্যান্য দেশকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে ভারত মনোনীত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো আরও কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আমাদের আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন উদ্যোগের (আরভিসিআই) বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক শিল্পের জন্য প্রতিবেশী দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ, বাংলাদেশের উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুবিধা গ্রহণ করে বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করতে পারি এবং জ্ঞান ও সম্পদ বিনিময়ভিত্তিক বৈশ্বিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন বিস্তৃত করতে পারি।’

মহামারির সময়েও বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং বিকাশের কথা তুলে ধরে ফাহিম আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোসিস্টেম আরও উন্নীত করার লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটি, আকাশ, সড়ক, রেল ও নৌপথের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লজিস্টিক খাতসহ অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছি। এছাড়া বাংলাদেশের উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সুবিধা সর্বাধিকীকরণের জন্য শুল্ক-শুল্কমুক্ত সুবিধা, ব্যবসায়ের সহজলভ্যতার জন্য নীতি কাঠামো নির্ধারণের কাজ চলছে। আমাদের ১৬০ মিলিয়নের শক্তিশালী দেশীয় বাজার, ১.৮ বিলিয়নের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বাজার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, এপিটিএ’র (এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা ইত্যাদি ভ্যালু চেইন উদ্যোগের পরিপূরক সম্ভাবনা।’

বাংলাদেশের ব্যবসা খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য একটি অত্যাধুনিক বাণিজ্য সংস্থা হিসেবে ফেডারেশনকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যে এফবিসিসিআই ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি অ্যাপ্লাইড রিসার্চ সেন্টার, এফবিসিসিআই এডিআর (অল্টারনেট ডিসপিউট রেজলিউশন) সেন্টারের ভূমিকা, এফবিসিসিআই টেক সেন্টার, এফবিসিসিআই ইনস্টিটিউট, এফবিসিসিআই ইউনিভার্সিটির মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে এফবিসিসিআই। পারস্পরিক সুবিধা লাভের জন্য গ্লোবাল পার্টনারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং এফবিসিসিআই ইমপ্যাক্ট ৪.০ উদ্যোগে প্রতিবেশী দেশের প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের বস্ত্র, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘মহামারির প্রভাব বিবেচনায় রেখে এখনই আমাদের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ঐক্যের বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময়। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আন্তঃনির্ভরশীলতার পাশাপাশি সহযোগিতার অপার সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পণ্য উৎপাদন করার মতো বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমেই হতে পারে আমাদের নতুন বন্ধন, নতুন পরিচয়।’

এফআইসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে যে কোনো সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি ক্রমাঙ্কিত এবং নিয়মতান্ত্রিক সম্পর্ক আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ঐক্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক সীমাবদ্ধতাগুলো মোকাবিলায় সহায়তা করবে।’

সম্মেলনে আলোচিত অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও বিকাশ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..