প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দক্ষ জনবল তৈরিতে আরও ৬ জেলায় হচ্ছে বিটাক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষ জনবল সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে একটি প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ছয়টি কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

গতকাল ১ হাজার ১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরে একনেক সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। সরকার পুরোপুরি দেশীয় অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেয়া এ প্রকল্প আগামী ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ করবে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র।

‘শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য’Ñবলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে গোপালগঞ্জ সদর, সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বরিশাল সদর, রংপুর সদর, জামালপুর সদর এবং যশোর সদর উপজেলায় সমন্বিতভাবে ৩৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ৬৫ হাজার ৭৫৫ বর্গমিটার আবাসিক ভবন এবং ৪৯ হাজার ৬২৮ বর্গমিটার অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬ হাজার ৬৬৭ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

‘বাংলাদেশে প্রযুক্তির মান খুব নিচে। বর্তমান সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে আমাদের শ্রমিকদের স্কিল বাড়ার জন্য। এ জন্য দেশে অনেক কারিগরি স্কুল-কলেজ থাকলেও এটাকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য বিটাকের আওতায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ ও আধুনিক সেবা খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রমশক্তি সৃজনের লক্ষ্যে কারিগরি তথা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে শিল্প কারখানায় দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণসহ বেকার জনশক্তির আত্মকর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সরকার আশা করছে। 

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এদিন একনেকের বৈঠকে এ প্রকল্পটিসহ মোট ৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বাকি ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জোগান দেয়া হবে।

অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্প ১. নেত্রকোনা-বিশিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক (জেড-৩৭১০) উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২২০ কোটি টাকা। ২. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ৩. ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ (সংশোধিত ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ ও ৪টি পাসপোর্ট অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ব্যয় বাড়ছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ৪. বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাস স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ব্যয় বাড়ছে ৩৩১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ৫. ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প; ব্যয় ১০৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। ৬. আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প; ব্যয় ২০০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুরের অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; ব্যয় বাড়ছে ৩ কোটি টাকা। ৮. বন্যা এবং নদীর কুল ভাঙন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগ কর্মসূচি (প্রকল্প-২); ব্যয় এক হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। ৯. ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) প্লান্ট স্থাপন প্রকল্প; ব্যয় ৭২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।