প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দক্ষ মেরিন পেশাদার তৈরি করছে আইএমএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটা সময় ছিল যখন মেরিন পেশায় আসতে পারতেন সীমিত কিছু শিক্ষার্থী। যারা সরকারি স্বল্পসংখ্যক আসনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতেন, তারাই কেবল মেরিন পেশায় আসতে পারতেন। কিন্তু এখন চিত্র পাল্টেছে। সরকার বেসরকারি মেরিন প্রতিষ্ঠান স্থাপনার অনুমতি দিলে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের বৃহৎ ও সবচেয়ে পুরোনো নাবিক রিক্রুটিং এজেন্সি হক অ্যান্ড সন্স। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিপিং কোম্পানি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমি (আইএমএ)।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মেরিনারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ও দক্ষ নাবিক তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই মেরিটাইম একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছে। সুযোগ-সুবিধা ও মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সম্প্রতি একটি জরিপ বলেছে, দেশের একমাত্র ‘এ গ্রেড’ পাওয়া বেসরকারি মেরিন একাডেমি হলো ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অ্যাকাডেমি। ‘এ’ গ্রেডপ্রাপ্ত এই মেরিটাইম একাডেমির স্থায়ী ক্যাম্পাসটি গাজীপুরের পুবাইলের উলুখোলায় অবস্থিত। এই ক্যাম্পাসে রয়েছে এক লাখ বর্গফুটের সাততলা একাডেমিক ভবন। আছে সুসজ্জিত লাইব্রেরি, রয়েছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনক লাইব্রেরি। তাতে পাঁচ হাজারের বেশি সমুদ্রবিজ্ঞানের বই আছে। আটটি ক্লাসরুমের প্রতিটিই কম্পিউটার পরিচালিত এবং উন্নত মাল্টিমিডিয়া ও সাউন্ড সিস্টেম সংবলিত। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৪০ জন ছাত্র লেখাপড়া করতে পারেন।
সমুদ্র বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য এখানে রয়েছে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সরঞ্জাম সংবলিত ওয়ার্কশপ। রয়েছে অত্যাধুনিক সিমুলেশন কক্ষ। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন জাহাজের চালনা পদ্ধতি সিমুলেশনের মাধ্যমে ক্যাডেটদের হাতে-কলমে শেখানো হয়। সিমুলেশন কক্ষে রয়েছে রাডার ও স্বয়ংক্রিয় রাডার প্লটিং এইড সিমুলেশন, ইলেকট্রনিক চার্ট ডিসপ্লে ও ইনফরমেশন সিস্টেম সিমুলেশন, গ্লোবাল মেরিটাইম ডিসট্রেস ও সেফটি সিস্টেম সিমুলেশন, লিকুইড কার্গো সিমুলেশন ও ইঞ্জিনরুম সিমুলেশন ইউনিট। আধুনিক ফায়ার ফাইটিং ও সারভাইবাল ক্রাফট ইউনিটের মাধ্যমে শেখানো হয় প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ। এছাড়াও আছে ব্যায়ামাগার, খেলার মাঠ, ইনডোর গেমস রুম। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় ক্লাস শেষ হয়। মাঝে দুপুরের খাবার ও চা-বিরতি।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমিতে প্রি-সি নটিক্যাল সায়েন্স ও প্রি-সি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংÑএই দুটি বিভাগে পড়ানো হয়। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো এই একাডেমিতেও ভর্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ছাত্র হতে হয়। এসএসসি ও এইচএসসিতে অন্তত ৩.৫ জিপিএ পেতে হয়। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে অবশ্যই ‘এ’ গ্রেড থাকতে হয়। আর ইংরেজিতে থাকতে হয় ‘বি’ গ্রেড।