সারা বাংলা

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র

 

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী: নদ-নদীবেষ্টিত জেলা নরসিংদী। আর এসব নদ-নদী ঘিরেই গড়ে উঠেছে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল। কিন্তু দখল ও দূষণে বেশিরভাগ নদ-নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
নরসিংদীর একদিকে শীতলক্ষ্যা অপরদিকে মেঘনা নদী। রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িদোয়া নদী, পাহারিয়া, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। এ নদীগুল নরসিংদী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বয়ে গেছে। নদীপথে সহজলভ্যতার কথা চিন্তা করে পাড়ঘেঁঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট বড় কারখানা। কিন্তু সম্প্রতি এ নদীকে কেন্দ্র করে তার দু-ধারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে একদিকে নদীর জায়গা দখল করেছে অপরদিকে এ সব কারখানার বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে ছেড়ে দেওয়ায় নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় নদী সংকোচিত হয়ে গেছে। যার ফলে এখন এ নদীগুলো প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে এখন বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না থাকায় নৌকা চলে না। এছাড়া নদীতে কারখানার কেমিক্যাল নদীর পানি দূষিত হওয়ায় মাছ শূন্য হয়ে গেছে।
দুই পাড়ের কারখানার সব বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি এ এসব নদ-নদীতে মেশার ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মাত্রা অনেক কম থাকে। এ কারণে এসব নদীতে মাছ বাঁচে না। আর পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারি দিয়েছেন একাধিকবার।
শিবপুর উপজেলার বড়ই তলা এলাকার বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পের বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি গজারিয়া ব্রিজের নিচে আন্ডারলাইন দিয়ে হাঁড়িধোয়া নদে পরে। এছাড়া নরসিংদীর সর্ববৃহৎ শিল্পনগরী বিসিক (আমতলা) এলাকার একটি গার্মেন্টসহ শতাধিক শিল্পের বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি নামে দড়িচর ব্রিজের পাশ দিয়ে। আর ভেলানগর ব্রিজের নিচ দিয়ে হাঁড়িধোয়ায় পড়ে বেশ কয়েকটি শিল্পের দূষিত পানি। ঘোড়াদিয়া ব্রিজ, হাজিপুর ব্রিজের নিজ দিয়ে বেশ কয়েকটি শিল্পসহ শতাধিক ড্রেন দিয়ে নরসিংদী শহরের পানি এ নদে এসে মিলিত হয়। এছাড়া শীতলক্ষ্যার পানিতে সারকার খানার কেমিক্যালের পানি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গরম পানি ছাড়ার কারণে মাছ শূন্য হয়ে গেছে। দুপাড়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে দখল হয়েছে নদীর জায়গাও।
নরসিংদী পরিবেশ আন্দোলন (আপন) এর সভাপতি মইনুল ইসলাম মীরু জানান, নদ-নদীর দূষণ আর দখল মুক্ত করতে একাধিকবার মানববন্ধন, সভা, সেমিনার ও প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপরন্তু পেয়েছি হত্যা আর প্রাণনাশের হুমকি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ৫০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নরসিংদীর ছয়টি নদী সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খননকাজ চলছে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে ২৩১ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার নদীখনন, ২২ দশমিক ২০৪ কিলোমিটার ঢেউয়ের আঘাত হতে নদীর তীররক্ষা কাজ এবং এক দশমিক ১৫০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে।

সর্বশেষ..